প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০৯ জানুয়ারি, ২০২৬
সুরা সাজদা, দাহর ও কাহফ পাঠ : রাসুল (সা.) জুমার দিন ফজরের সালাতে প্রথম রাকাতে সুরা আলিম লাম মীম সাজদা এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা দাহর পাঠ করতেন।’ (বোখারি : ৮৯১)। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার (ঈমানের) নুর এ জুমা হতে আগামী জুমা পর্যন্ত চমকাতে থাকবে।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ : ২১৭৫)।
নবীজির প্রতি দুরুদ : রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দিনসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমার দিন। এ দিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনই তার রুহ কবজ করা হয়েছে, এ দিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে এবং এ দিনই বিকট শব্দ করা হবে। কাজেই এ দিন তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দুরুদ পাঠ কর। কারণ, তোমাদের দুরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’ (সুনানে আবি দাউদ : ১০৪৭)।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা : রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ জুমার নামাজে এলে সে যেন উত্তমরূপে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন এবং গোসল করে।’ (বোখারি : ৮৭৭)।
উত্তম পোশাক পরা ও সুগন্ধি ব্যবহার : রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে উত্তম পোশাক পরিধান করে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করে, অতঃপর জুমার নামাজে আসে এবং অন্য মুসল্লিদের গায়ের ওপর টপকে সামনে না যায়, নির্ধারিত নামাজ আদায় করে, অতঃপর ইমাম খুতবার জন্য বের হওয়ার পর হতে নামাজ শেষ হ?ওয়া পর্যন্ত চুপ করে থাকে, তবে তার এ আমল পূর্ববর্তী জুমার দিন হতে পরের জুমার দিন পর্যন্ত সমস্ত সগিরা গোনাহের জন্য কাফফারা হবে।’ (সুনানে আবি দাউদ : ৩৪৩)।
দ্রুত মসজিদে যাওয়া : রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন অপবিত্রতার গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং সালাতের জন্য আগমন করে, সে যেন একটি উট কোরবানি করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করে, সে যেন একটি গাভী কোরবানি করল। তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমন করে, সে যেন একটি শিংবিশিষ্ট দুম্বা কোরবানি করল। চতুর্থ পর্যায়ে যে ব্যক্তি আগমন করল, সে যেন একটি মুরগী কোরবানি করল। পঞ্চম পর্যায়ে যে আগমন করল, সে যেন একটি ডিম কোরবানি করল। পরে ইমাম যখন খুৎবা দেওয়ার জন্য বের হন, তখন ফেরেশতারা জিকির শোনার জন্য উপস্থিত হয়ে থাকে।’ (বোখারি : ৮৮১)।
মনোযোগসহ খুতবা শোনা : রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন যখন তোমার পাশের মুসল্লিকে চুপ থাক বলবে, অথচ ইমাম খুতবা দিচ্ছেন, তাহলে তুমি একটি অনর্থক কথা বললে।’ (বোখারি : ৯৩৪)। অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘যখন ইমাম খুতবার জন্য বের হবেন, তখন নামাজ পড়বে না, কথাও বলবে না।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ : ৩/৪৩২)।
বেশি বেশি দোয়া করা : রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে একটি বিশেষ মুহূর্ত আছে, তখন কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে যা-ই দোয়া করে, আল্লাহতায়ালা তা-ই কবুল করেন। তোমরা এ মুহূর্তটিকে আসরের শেষে অনুসন্ধান কর।’ (সুনানে আবি দাউদ : ১০৪৮)।