চোখের হেফাজতের গুরুত্ব
আবদুল্লাহ নোমান
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
বান্দা যখন রবের প্রেমে পড়ে, তাঁর ভালোবাসায় হৃদয়জগত আলোকিত হয়, তখন পরনারীর দিকে তাকাতে বান্দার বিবেকে বাধে। স্বভাবত প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে আল্লাহর ভালোবাসার বীজ বিদ্যমান থাকে। গোনাহের কারণে তার ওপর আস্তরণ পড়ে যায়। যখন নিয়মতান্ত্রিক মোজাহাদা ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে অন্তরে ঘষামাজা করা হয়, তখন সে আবরণ সরে গিয়ে আল্লাহপ্রেমের বীজ অঙ্কুরিত হয়। ধীরে ধীরে প্রস্ফুটিত হয়ে দিগি¦দিক সৌরভ ছড়ায়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা ঈমান এনেছে, তারা আল্লাহকেই সর্বাপেক্ষা বেশি ভালোবাসে।’ (সুরা বাকারা : ১৬৫)।
উপযুক্ত বয়সে বিয়ে : বিয়ে চারিত্রিক পবিত্রতা ও চোখের হেফাজতের অন্যতম উপায়। এতে যেমন জীবন ছন্দময়, গতিময় ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়, তেমনি দৃষ্টি হয় অবনত, লজ্জাস্থান হয় সংরক্ষিত এবং যৌবন হয় পুলকিত। মানব-মানবী যৌবনকালে যৌন-সম্ভোগের জন্য উন্মুখ থাকে, তখন যৌন ক্ষুধা প্রবল হয়। এ সময় তাদের ক্ষুধা নিবারণের বৈধ ব্যবস্থা না থাকলে অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে। সঙ্গত কারণে তাদের জন্য দৃষ্টি সংযত রাখা কষ্টকর হয়ে পড়ে। অতএব, শক্তি-সামর্থ্যে বিয়ের উপযুক্ত হলে দেরি না করা বাঞ্ছনীয়। এ ক্ষেত্রে নবীজি (সা.)-এর বাণী খুবই উদ্দীপক। তিনি যুবসম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেন, ‘হে যুবসম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে ফেলে। কেননা, তার চোখ ও যৌনাঙ্গ সংযত রাখার ক্ষেত্রে অধিক কার্যকরী। আর যে সক্ষমতা না রাখবে, সে যেন রোজা রাখে। কেননা, তা-ই তার যৌন উত্তেজনা দমিয়ে রাখবে।’ (বোখারি : ৫০৬৬)।
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সতর্কতা : বর্তমান ইন্টারনেট, মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নানা অশ্লীলতা ও বেহায়াপনায় ঠাসা। বিভিন্ন ধরনের অভিশপ্ত নাটক-সিনেমার ফিল্ম ও মুভিতে জাতির ভবিষ্যৎ শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের শিক্ষা দেওয়া হয় পরকীয়ার কৌশল, ব্যভিচারের পদ্ধতি, নোংরামির যাবতীয় পন্থা। এসব দৃশ্য দেখে যাদের বেড়ে ওঠা, তারা বড় হয়ে এগুলোতে জড়িয়ে পড়া স্বাভাবিক। এসব নষ্ট মিডিয়া উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি। অনেক যুবক-যুবতী অশ্লীলতায় ভরা নীল ছবি দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তাদের সুপ্ত যৌনাকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়। নিজেদের কামনা-বাসনা চরিতার্থের জন্য উন্মাদের মতো এদিক-সেদিক ছুটে বেড়ায়। যৌন ক্ষুধার মাদকতায় একের পর এক বীভৎস দুর্ঘটনা ঘটায়। যা দেখে দেশের কর্ণধাররা হতবাক। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয় পিতামাতা ও দায়িত্বশীলরা। অথচ তাদের কর্তব্য ছিল, সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই ইসলামের আলোকিত শিক্ষায় শিক্ষিত করা। দায়িত্বশীলকে অবশ্যই তার অধীনস্থদের ব্যাপারে যত্নশীল হতে হবে। নবীজি (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তিন ব্যক্তির জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন- মদপানকারী, পিতামাতার অবাধ্য সন্তান এবং দায়ুস, যে তার পরিবারকে মন্দ কাজের সুযোগ করে দেয়। (অর্থাৎ নিজ স্ত্রী, কন্যা ও অধীনস্থদের পাপাচারে যে ঘৃণাবোধ করে না)।’ (মুসনাদে আহমদ : ৫৩৭২)।
