ঢাকা শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

রমজানের প্রস্তুতি নেওয়ার ৯ উপায়

ফারহান হাসনাত
রমজানের প্রস্তুতি নেওয়ার ৯ উপায়

দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র রমজান। কদিন পর আকাশে উঠবে রমজানের আলো ঝলমলে বাঁকা চাঁদ। আসন্ন রমজানের অপেক্ষায় সুখময় অস্থিরতায় কাটছে মুমিনের দিন। তার জীবনজুড়ে শুরু হয়ে গেছে ইবাদতের সাজ সাজ রব। সবার উচিত, এখন থেকেই রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করা। একজন মুসলিম রমজানের জন্য নিজেকে কীভাবে প্রস্তুত করবেন, এখানে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করা হলো-

আল্লাহর কাছে দোয়া করা : আল্লাহর কাছে রমজান পর্যন্ত জীবন লাভের দোয়া করুন। বলতে হবে, হে আল্লাহ, আমার জীবনে বরকত দিন। সুস্থতা দিন। আমার দেহে শক্তি দিন। রমজান পর্যন্ত আমার জীবনকে প্রলম্বিত করুন। রহমত-বরকত হাসিল করার সুযোগ দিন।’ বান্দা দোয়া করলে আল্লাহ খুশি হন। দোয়া কবুল করেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমার বান্দারা যখন আপনার কাছে আমার বিষয়ে জিজ্ঞেস করে। নিশ্চয় আমি কাছেই আছি। আমি দোয়াকারীর দোয়া কবুল করি। যখন সে আমার কাছে দোয়া করে।’ (সুরা বাকারা : ১৮৬)।

ইবাদতের নিয়ত করা : রমজানে বেশি বেশি ইবাদত করার দৃঢ় সংকল্প করুন। কোরআন তিলাওয়াত, ইসতেগফার ও আমল-ইবাদতে সময় কাটানোর নিয়ত করুন। রমজানে কোন কোন আমল বেশি করা হবে, তা ঠিক করুন। উমর (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘কাজ (এর প্রাপ্য হবে) নিয়ত অনুযায়ী। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফলন পাবে।’ (বোখারি : ১)।

পূর্ব পরিকল্পনা : রমজানের আগে কাজের একটি তালিকা তৈরি করুন। কায়িক পরিশ্রমের কাজ কমিয়ে ফেলুন। সম্ভব হলে গুটিয়ে ফেলুন। ধর্মীয় বই সংগ্রহ করুন। পরিবারের সবার সঙ্গে রমজান কাটানোর বিষয়ে পরামর্শ করুন। সম্ভব হলে, শেষ ১০ দিন ইতিকাফের নিয়ত করুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে কোনো ভালো কাজের ইচ্ছা করে, অথচ এখনও সে তা পূর্ণ করেনি, তবুও তার জন্য একটি সওয়াব লেখা হবে। যদি সে ওই কাজটি করে ফেলে, তাহলে তার জন্য দশ থেকে সাতশ; বরং অগণিত সওয়াব লেখা হবে।’ (মুসলিম : ২৩৫)।

নামাজে মনোযোগ বৃদ্ধি : রমজানের প্রথম দিন থেকে নামাজ শুরু করব; এমন চিন্তা মাথা থেকে ছুড়ে ফেলুন। এখনই নামাজে মনোযোগী হোন। জামায়াতের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা আবশ্যকীয় করে নিন। আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই মুমিনরা সফল হয়েছে। যারা নিজেদের নামাজে বিনয়াবত। আর যারা অনর্থক কথা কাজ থেকে বিমুখ।’ (সুরা মোমিনুন : ১-৩)।

ফাজায়েল ও মাসায়েল শিক্ষা : রমজানের ফাজায়েল ও মাসায়ালার বই পড়ুন। কোন কাজ করা যাবে আর কোন কাজ করা যাবে না, সে বিষয়ে জানতে চেষ্টা করুন। রমজানের ফজিলত নিয়ে আলোচনা করুন। ফাজায়েল জানলে আমল করতে সুবিধা হবে। ইসলামের বিধি-বিধান ও মাসয়ালা সম্পর্কে জানেন- এমন নির্ভরযোগ্য ইমাম, আলেমকে জিজ্ঞেস করুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম, যে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।’ (বোখারি : ৫০২৭)।

গুনাহ ছাড়ুন : গুনাহের কাজ ছাড়ুন। গুনাহতে ডুবে থাকলে রমজানের বরকত থেকে বঞ্চিত হবেন। গুনাহ করতে করতে রমজানে প্রবেশ করলে রমজানের বরকত লাভ হবে না। এখনই আত্মশুদ্ধি অর্জনের চেষ্টা করুন। রমজানের পবিত্রতা বজায় রাখুন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য গুনাহ ছেড়ে দাও। নিশ্চয়ই যারা গুনাহ করে, অচিরেই তাদেরকে তাদের কর্মকাণ্ডের বদলা দেওয়া হবে।’ (সুরা আনয়াম : ১২০)।

কোরআন তিলাওয়াত : রমজানের আগেই কোরআন তিলাওয়াত শুরু করুন। কোরআন পড়তে না জানলে এখনই শিখে ফেলুন। যারা নিয়মিত তিলাওয়াত করতেন, বাড়িয়ে দেন। রমজানে একাধিক কোরআন খতম দেওয়ার চিন্তা করুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে কোরআন তিলাওয়াত করে, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে এ লেবুর মতো, যা সুস্বাদু এবং সুগন্ধযুক্ত। যে কোরআন পাঠ করে না, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমন খেজুরের মতো, যা সুগন্ধহীন, কিন্তু খেতে সুস্বাদু। যে ফাজির (আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসের মাধ্যমে পাপাচারী) ব্যক্তি কোরআন পাঠ করে, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে রায়হানজাতীয় লতার মতো, যার সুগন্ধ আছে, কিন্তু খেতে বিস্বাদ। আর ওই ফাসিক বা পাপাচারী যে কোরআন একবারেই পাঠ করে না, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে ওই মাকাল ফলের মতো, যা খেতেও বিস্বাদ এবং যার কোনো সুগন্ধও নেই।’ (বোখারি : ৫০২০)।

গরিব-অসহায়ের পাশে দাঁড়ান : গরিব, মিসকিনদের খোঁজখবর নিন। সাধ্যমতো দান-সদকা করুন। রমজানের প্রস্তুতি নিতে তাদের সহযোগিতা করুন। তাদের ইফতার ও সাহরির ব্যবস্থা করুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ বলেছেন, হে আদম সন্তানরা, তোমরা অকাতরে দান করতে থাকো, আমিও তোমাদের ওপর ব্যয় করব। নবী (সা.) আরও বলেন, আল্লাহর ডান হাত প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ। রাত দিন অনবরত ব্যয় করলেও তা মোটেই কমছে না।’ (মুসলিম : ২১৯৮)

আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বান : রমজানের ফজিলত ও যেসব কাজ শরিয়তে নিষিদ্ধ, সে বিষয়ে আলোচনা করুন। সম্ভব হলে মহল্লার মসজিদে নির্ভরযোগ্য আলেম এনে রমজানের গুরুত্ব, ফজিলত ও আমল সম্পর্কে সেমিনার করুন। পরিবারে রমজান বিষয়ক সচেতনতা তৈরি করুন। বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশীকে আল্লাহর পথে ডাকুন। আল্লাহ বলেন, ‘আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সুরা হামিম আস-সাজদা : ৩১)।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত