মক্কা শরিফের জুমার খুতবা
হজের প্রতিদান জান্নাত
শায়খ ড. আবদুল্লাহ বিন আওয়াদ আল জুহানি
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আল্লাহর কাছ থেকে পালানোর কোনো জায়গা নেই। শুধু তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে। অতএব, কথা ও কাজে আল্লাহর সঙ্গে সত্যবাদী হওয়া চাই। আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে। কারণ এ দুটির মধ্যেই রয়েছে সুখ, সম্মান ও মুক্তি। আল্লাহ আমাদের গোপন বিষয় যেমন জানেন, তেমনি প্রকাশ্য বিষয়ও জানেন। আমাদের কোনো কিছুই তাঁর কাছে গোপন থাকে না। মহান আল্লাহ নবীজি (সা.)-এর উম্মতের প্রতি অনেক বড় অনুগ্রহ করেছেন। তিনি তাদের সত্যের পথ দেখিয়েছেন, সঠিক পথকে আলোকিত করেছেন, কল্যাণ ও সুখের পথ সহজ করে দিয়েছেন এবং আশা ও আশাবাদের দরজা উন্মুক্ত করেছেন। কল্যাণের একটি মৌসুম শেষ না হতেই আরেকটি আসে। এ দিনগুলোতে মুসলমানদের হৃদয়ে আল্লাহর পবিত্র কাবাঘরের প্রতি গভীর আগ্রহ জাগে। ওমরা ও হজ পালন এবং রাসুল (সা.)-এর মসজিদ জেয়ারতের জন্য মনটা ব্যাকুল হয়ে ওঠে।
নিয়ত সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর জন্য বিশুদ্ধকরণ : আল্লাহতায়ালা তাঁর নবী (সা.)-এর উম্মতের প্রতি দয়া করে সামর্থ্য হলে জীবনে একবার হজ ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি হজ করতে চায়, তার উচিত নিয়তকে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর জন্য বিশুদ্ধ করা ও তার আমলকে রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী করা। সে যেন হালাল উপার্জন থেকে খরচ করে ও প্রয়োজনের তুলনায় উদারভাবে ব্যয় করে। কারণ, আল্লাহ পবিত্র। তিনি কেবল পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করেন। এতে তার সওয়াব আরও বৃদ্ধি পায়। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ওমরার সময় বলেছেন, ‘তোমার সওয়াব তোমার কষ্ট ও ব্যয়ের পরিমাণ অনুযায়ী হবে।’ (মুসলিম : ২৮১৭)।
হজকে পরিশুদ্ধ রাখা চাই : হজযাত্রীদের আমল একমাত্র আল্লাহর জন্য খাঁটি করা চাই। তাদের হৃদয় শুধু তাঁর সঙ্গেই যুক্ত রাখা চাই। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে প্রয়োজন পূরণের আশা করা যাবে না। কারণ, তিনিই সব প্রয়োজন পূরণকারী, দোয়া কবুলকারী ও সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। তিনি ছাড়া সবাই তাঁরই মুখাপেক্ষী। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যিনি আর্তের আহ্বানে সাড়া দেন, যখন সে তাঁকে ডাকে ও বিপদাপদ দূর করেন।’ (সুরা নামল : ৬২)। তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহ তোমাকে ক্লেশ দিলে তিনি ছাড়া তা মোচনকারী কেউ নেই। আল্লাহ যদি তোমার মঙ্গল চান তবে তাঁর অনুগ্রহ পরিবর্তন করার কেউ নেই।’ (সুরা ইউনুস : ১০৭)। তাই আল্লাহকে ভয় করতে হবে। তাঁর পবিত্র বিধানসমূহকে সম্মান করা চাই। তাঁর ঘর, পবিত্র ভূমি ও রাসুল (সা.)-এর শহরে আদব রক্ষা করা চাই। হজকে পরিশুদ্ধ রাখতে হবে। নিয়ত খাঁটি করা চাই। সুন্দর আচরণ করতে হবে। ভালো কথা বলতে হবে। সুন্নাহ অনুসরণ করা চাই। এতে পুরস্কার ও সওয়াব লাভ করা যাবে।
হাজিদের সেবায় নানা কার্যক্রম : হজ-ওমরার নির্দিষ্ট রোকন, ওয়াজি, সুন্নত ও আদব রয়েছে। যখন কোনো মুসলমান ইহরাম বাঁধে, তখন সে নিজেকে এমন কিছু কাজের সঙ্গে বাধ্য করে যা তাকে অবশ্যই পূর্ণ করতে হবে। এ সময় ইহরামের নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকারও দায়িত্ব তার ওপর এসে যায়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার কাছ থেকে তোমরা তোমাদের হজের নিয়মণ্ডকানুন শিখে নাও।’ (সুনানে আবি দাউদ : ১৯৯০)। আল্লাহতায়ালা তাঁর পবিত্র স্থানসমূহের দেখভাল ও সেবার জন্য যথেষ্ট যোগ্য ও সক্ষম মানুষ নিয়োজিত রেখেছেন, যারা হারাম শরিফ ও হাজিদের সেবা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। সৌদি সরকার হারামাইন শরিফাইন ও ইহরামের সব মিকাতে আলেমদের নিয়োজিত করেছে। যারা মানুষকে পথ দেখান। তাদের হজ-ওমরার নিয়ম শেখান ও সঠিক পথে পরিচালিত করেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা যদি না জান তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস কর।’ (সুরা নাহল : ৪৩)। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হাজিদের সেবায় আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার।
হজের সফরে তাওবার গুরুত্ব : ওমরাহ ও হজ যেন মাবরুর বা কবুল হয়, সঙ্গে সঙ্গে সকল চেষ্টা-সাধনা যেন গ্রহণযোগ্য হয়, এমনটা সবার প্রত্যাশা। কারণ, রাসুল (সা.) বলেন, ‘মাবরুর হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।’ (বোখারি : ১৭৭৩)। তিনি আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হজ করে, অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে বিরত থাকে, সে এমনভাবে ফিরে আসে যেন সে আজই তার মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নিয়েছে।’(বোখারি : ১৫২১)। তাই এ পবিত্র ভূমিতে, যেখানে ওহি নাজিল হয়েছে ও কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে, এটি হজযাত্রীদের জন্য বড় সুযোগ যে, পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়ে অশ্রু ঝরানো যাবে। যত গোনাহ হৃদয়কে কলুষিত করেছে সেগুলো ধুয়ে ফেলা যাবে। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া যাবে। তিনি ক্ষমা করে দেবেন। তাই আন্তরিকভাবে তাওবা করতে হবে।
২১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি মোতাবেক ৮ মে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে মক্কার মসজিদে হারামে প্রদত্ত জুমার খুতবার সংক্ষেপিত অনুবাদ করেছেন - আবদুল কাইয়ুম শেখ
