মুনশি মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ
সহকারী মুফতি, মারকাজুশ শাইখ আরশাদ আল-মাদানি, মানিকনগর, ঢাকা
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রশ্ন : সবকিছু তাকদিরে লেখা থাকলে বান্দার কর্মের শাস্তি হবে কেন?
উত্তর : তাকদির বিষয়ে কথা বলার অনুমতি নেই। আয়েশা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি তাকদির বিষয়ে কথা বলে, কেয়ামতের দিন এ কারণে সে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ : ৮৪)। তাই তাকদির বিষয়ে প্রশ্ন করা, আলোচনা করা, গবেষণা করা সম্পূর্ণ নিষেধ। আমাদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতেই মগ্ন থাকা উচিত। তাকদির আল্লাহর গোপন রহস্য। এ রহস্য সম্পর্কে কোনো ফেরেশতা বা নবীও জানেন না। তাই এ বিষয়ে আমাদের চিন্তা-ফিকির করা নিজের ইমানের ক্ষতি করা ছাড়া কোনো লাভ নেই। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা ও আলোচনা করা থেকে বিরত থাকা মোমিনের জন্য আবশ্যক। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে; তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের কাছে এমতাবস্থায় এলেন, যখন আমরা তাকদির বিষয়ে আলোচনা করছিলাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রচণ্ড রেগে গেলেন। রাগে তার চেহারা আনারের মতো রক্তিম বর্ণ হয়ে গেল। তিনি বললেন, ‘তোমরা এসব করতে আদিষ্ট হয়েছ নাকি আমি এসবের জন্য আবির্ভূত হয়েছি? পূর্ববর্তী লোকজন এ বিষয়ে আলোচনা করে ধ্বংস হয়েছে। আমি তোমাদের দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, তোমরা এ বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়ো না।’ (তিরমিজি : ২১৩৩)।
উল্লেখ্য, আল্লাহ বান্দাকে কোনো কাজ করতে বাধ্য করেন না; বরং দুনিয়াতে তাকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আল্লাহ যেহেতু সব বিষয়ে জানেন, তাই তিনি আগে লিখে রেখেছেন- বান্দা কী করবে! এটাই তাকদির। আর আল্লাহর এ লিখে রাখা বান্দার কর্মের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। তাই বান্দা তার কর্ম অনুপাতে ফল পাবে। আরেকভাবে বলা যায়, দুনিয়াতে বান্দা ভালো বা মন্দ উভয় কাজের জন্য স্বাধীন। এখানে আল্লাহ কাউকে কোনো কাজ করতে বাধ্য করেন না সরাসরি। বাকি বান্দা কী করবে, তা আল্লাহ আগ থেকেই জানেন। সে হিসেবে আগেই সবকিছু লিখে রাখা হয়েছে। আল্লাহর উক্ত লিখে রাখার দ্বারা বান্দার কাজে কোনো প্রভাব সৃষ্টি করে না। তাই বান্দা তার কর্ম অনুপাতে প্রতিদান পাবে। বান্দা যেহেতু জানে না, আল্লাহ কী লিখে রেখেছেন, তাই বান্দার উচিত ভালো কাজ করতে সর্বদা সচেষ্ট থাকা এবং মন্দ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। এ বিষয়ে অতিরিক্ত আলোচনা একদম অনুচিত।
