মক্কা শরিফের জুমার খুতবা

মুসলমানদের প্রতি কোরআনের নির্দেশনা

শায়খ ড. আবদুল্লাহ বিন আওয়াদ আল জুহানি

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোরআন নাজিলে আল্লাহতায়ালার সুমহান কিছু লক্ষ্য রয়েছে। রয়েছে বিশেষ কিছু তাৎপর্য। কোরআন সৃষ্টির সংশোধনে স্রষ্টার সংবিধান। এটি মনোজগত সভ্য করে তোলে। আত্মা পরিশুদ্ধ করে। মুগ্ধ স্বভাব গঠন করে। কোরআন মানুষকে সরল পথ দেখায়। এটি রাসুল (সা.) আল্লাহর পক্ষ থেকে যে পয়গাম নিয়ে এসেছেন, তার সত্যতার অকাট্য সুস্পষ্ট ও সহজবোধ্য প্রমাণ। যুগের বিবর্তনে যার প্রামাণ্যতা কখনও ম্লান হবে না।

 

কোরআনের ব্যাপকতা : কোরআন নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করলে দেখা যায়, জীবনের সব দাবি, সব প্রয়োজন, ইহ-পরকালীন সৌভাগ্যের সব উপকরণই এতে বিদ্যমান। কল্যাণকর সব পথই কোরআন বলে দিয়েছে। অকল্যাণকর ও মন্দ এমন কোনো পথ নেই, কোরআন যা থেকে নিষেধ করেনি, সতর্ক করেনি। মানবজীবনের সব দিক- বিশ্বাস, চরিত্র, লেনদেন কীভাবে সংশোধন হবে, সুন্দর হবে, পরিপাটি হবে, কোরআনে তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যে জাতি বিপদে স্থির থাকে, সত্যের পথ দেখায়, সত্যের জন্য লড়াই করে, অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করে, কোরআন রবের প্রতি এমন বিশ্বাসী জাতি গঠনে অবতীর্ণ হয়েছে।

 

কোরআনি জাতি : কোরআন এটি বাস্তবায়ন করেও দেখিয়েছে। কোরআনের কল্যাণে এমন জাতি গঠিত হয়েছে, যারা নিজেদের প্রতি দয়ার্দ্র ছিল, কিন্তু শত্রুর বেলায় ছিল কঠোর। আল্লাহতায়ালা বলেন, 'মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল। তার সঙ্গীরা কাফেরদের প্রতি কঠোর, আর পরস্পরের প্রতি কোমল। তুমি তাদেরকে রুকু ও সেজদারত দেখতে পাবে। দেখতে পাবে, তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অনুগ্রহ অন্বেষণ করছে।' (সুরা ফাতহ : ২৯০)। তারা ছিলেন এ ধরায় আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন। পৃথিবীতে তারা বিপ্লব ঘটিয়েছেন। আল্লাহর ইচ্ছায় পৃথিবীকে পদানত করেছেন। মানবতার জন্য স্থির করে রেখে গেছেন স্বচ্ছ ও পবিত্র বিশ্বাস, বিশুদ্ধ বোধ ও উপলব্ধি এবং ন্যায়পরায়ণতার মানদণ্ড। তারা পৃথিবীতে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আজও কোরআন তাদের অনুরূপ জাতি গঠনে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে উম্মাহর যুবসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। পূর্বসূরিদের আল্লাহর প্রতি যে দৃঢ় ঈমান ছিল, তাওয়াক্কুল ছিল, একমাত্র আল্লাহর রজ্জু আঁকড়ে ধরার যে গুণ ছিল, তাকদিরে বিশ্বাসের যে দৃঢ়তা ছিল, আল্লাহর অঙ্গীকার ও ভীতি প্রদর্শনে যে আস্থা ছিল, এর সব আপন করে নিতে হবে। এগুলোই কোরআনের মর্মবাণী। রাসুল (সা.) এ কোরআনি চরিত্রেই চরিত্রবান ছিলেন। সাহাবায়ে কেরাম ও সোনালি যুগের মানুষরা এ নীতিরই অনুসরণ করেছেন।

 

কোরআনের প্রভাব : কোরআনি আদর্শ, কোরআনি চিন্তা, কোরআনি ধ্যান-ধারণা যখন কোনো মোমিনের হৃদয়ে বদ্ধমূল হয়ে যায়, সে সব দুর্যোগ, দুর্বিপাকে অটল ও অবিচল থাকে। সব বিরোধী শক্তির সামনে নির্ভীক থাকে। রাসুল (সা.) আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে বলেন, 'তুমি আল্লাহর হকগুলো হেফাজত করো, আল্লাহ তোমাকে হেফাজত করবেন। আল্লাহর হকগুলো সংরক্ষণ করো, সদা তুমি তাকে সামনে পাবে। কিছু চাইলে আল্লাহর কাছেই চাইবে। সাহায্য প্রার্থনা করলে তাঁরই কাছে করবে। মনে রাখবে, সমগ্র জাতি যদি তোমার কোনো উপকার করতে চায়, আল্লাহ যা লিখে রেখেছেন, তার বেশি একটুও তারা তোমার উপকার করতে পারবে না। সমগ্র জাতি মিলে যদি তোমার ক্ষতি করতে চায়, আল্লাহ তোমার জন্য যা লিখে রেখেছেন, তার ব্যতিক্রম তারা কিছুই করতে পারবে না। কলমগুলো তুলে নেওয়া হয়েছে। ভাগ্যলিপি শুকিয়ে গেছে।' (মুসনাদে আহমদ : ২৬৬৯)।

 

কোরআনেই মান-সম্মান : অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যতে যেসব বিষয়ের মাধ্যমে মুসলিম জাতি সম্মান অর্জন করতে পারে, কোরআন তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান অর্জনের মাধ্যম। কোরআনের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত মুসলমানদের চলার পথ। কোরআনের খেদমতই শ্রেষ্ঠত্ব লাভের উপায়। সম্মান অর্জনের এ দ্বার সদা উন্মুক্ত, এ ক্ষেত্র সদা প্রস্তুত। যারা বিশুদ্ধ মনে এ পথে চলতে চায়, ইখলাস ও সওয়াবের আশায় অগ্রসর হতে চায়, যারা চায় পার্থিব ও পরকালীন কল্যাণ লাভ করতে, কোরআন তাদের সদা আহ্বান করে। আল্লাহতায়ালা নিজে এই কোরআন হেফাজতের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আমিই এই কোরআন নাজিল করেছি। আমিই এর হেফাজত করব।' (সুরা হিজর : ৯)। তিনি বান্দাদের জন্য কোরআন হিফজ করা, হৃদয়ে ধারণ করা ও কাগজে সংরক্ষণ করা সহজ করে দিয়েছেন।

 

মক্কার মসজিদে হারামে প্রদত্ত জুমার খুতবার সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর -মুইনুল ইসলাম