পেঁয়াজের ঝাঁজ বাড়ছে আদা-রসুনেও বিপদ

প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২২, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোতে রোজা ও কোরবানির ঈদে জিনিসের দাম কমলেও বাংলাদেশে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে দৃশ্যপট পরিবর্তন হতে দেখা যায়।

ফিবছর কোরবানির ঈদ এলে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের বাড়তি কদর তৈরি হয়। মাংস রান্নায় এ তিনটি মশলার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রায় প্রতি ঈদেই এ তিনটি মশলার দাম বৃদ্ধি পেলেও এবার পর্যাপ্ত মজুতে কিছুটা স্বস্তিতে থাকবে ক্রেতারা। আদা ও রসুনে স্বস্তি থাকলেও পেঁয়াজ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ বর্তমানে দেশের কৃষকদের বাঁচাতে দেশীয় পেঁয়াজেই চাহিদা মিটছে সাধারণ জনগণের।

ক্রেতারা শঙ্কায় থাকলেও ভারতীয় পেঁয়াজ না এলে অতো বেশি দাম বাড়ার শঙ্কা নেই বলেই জানিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। মূলত ক্রেতাদের মধ্যে আদা, রসুন ও পেঁয়াজ নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও স্বস্তির বাতাস দিচ্ছেন শ্যামবাজারের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুত আছে। এজন্য দাম সেভাবে বাড়ার শঙ্কা নেই।

শ্যামবাজার পেঁয়াজ, রসুন সমিতির প্রচার সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত আদা ও পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। মানে ভোক্তার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। তবে চায়না রসুনের দামটা একটু বেশি। আর দেশি রসুনের দামও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, শ্যামবাজারে পেঁয়াজ ৩৮ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এটা পাইকারি রেট। তবে, মে মাসের ৫ তারিখ থেকে ভারতের পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ রয়েছে। ঈদের আগে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে জানান তিনি।

শহিদুল ইসলাম বলেন, যদি ভারত থেকে পেঁয়াজ না আসে তাহলে দাম কিছুটা বাড়বে। তবে, অতিরিক্ত দাম বাড়বে না। ৫ থেকে ৭ টাকার মধ্যেই থাকবে। যদি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমদানির অনুমতি দিয়ে দেয় তাহলে পেঁয়াজের দাম কমবে। এক সপ্তাহ আগে পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা। আর এখন হয়েছে ৪০ টাকা।

আদার দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বার্মার আদা ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে বার্মার আদার দাম ৪৩ টাকা থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে পাইকারি বাজারে। তবে ঈদের আগে দাম বাড়বে না। কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণে আদা মজুত রয়েছে।

রসুনের দাম নিয়ে শহিদুল ইসলাম বলেন, মাঝারি আকারের দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে। আর চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকা থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। গত এক সপ্তাহ আগে চায়না রসুনের দাম ছিল ৮০ টাকা থেকে ৯০ টাকা। আর দেশি রসুনের দাম ছিল ৫৫ টাকা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দুই থেকে ৫ টাকা বাড়তেও পারে আবার নাও বাড়তে পারে। কারণ যথেষ্ট পরিমাণে মজুত রয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য (আইআইটি) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব একেএম আলী আহাদ খান বলেন, পেঁয়াজের মজুতের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আপাতত ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি বলেন, বর্তমানে পেঁয়াজ ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পেঁয়াজের দাম সহনশীল অবস্থায় আছে। আমরা মূলত কৃষক বাঁচাতে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছি। কারণ কৃষকরা যদি দাম না পায় তাহলে তারা পেঁয়াজ চাষ থেকে সরে যাবে। আমাদের কী পরিমাণ মজুত আছে, সেগুলো হিসাব করে দেখতে হবে। যদি মনে হয় যে, আমদানির প্রয়োজন আছে তাহলে আমরা আমদানির অনুমতি দিয়ে দেব।

তিনি আরও বলেন, হিসাব অনুযায়ী ঈদের আগে পেঁয়াজে কোনো সংকট হবে না। আর আদা-রসুনে তো কোনো ক্রাইসিস হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ আদা-রসুন আমদানির পাশাপাশি পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।