ডা. শহিদুলের মনোনয়ন দাবিতে সাতক্ষীরায় জনসমাবেশ

বিএনপি প্রার্থী আলাউদ্দিনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্র্বাহী কমিটির সদস্য ও গরিবের ডাক্তার খ্যাত অধ্যাপক ডা. শহিদুল আলমকে সাতক্ষীরা-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনের ১৬তম দিনে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মনোনয়ন দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের এই জনসমাবেশ লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে রূপান্তরিত হয়।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা সদরের সোহরাওয়ার্দী মাঠে গতকাল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই জনসমাবেশ হয়। সমাবেশে কালীগঞ্জের ১২টি ইউনিয়ন এবং আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ হিন্দু, মুসলিম ও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের নজিরবিহীন উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। জনসভায় বক্তারা বলেন, ‘সাতক্ষীরা জেলার সর্বোচ্চ জনপ্রিয় মানুষ ও গরিবের বন্ধু ডা. শহিদুল আলম। তার নমিনেশন নিশ্চিত করার দাবিতে আমরা টানা ১৬ দিন ধরে এই রাজপথে আছি। তারই অংশ হিসেবে আজকের এই জনসমাবেশ। এই জনসমাবেশে লাখো জনতার উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে উঠেছে শুধুমাত্র ডাক্তারের নমিনেশন নিশ্চিত করার জন্য। আমরা চাই সাতক্ষীরা-৩ আসনটি ধানের শীষ নিয়ে নিশ্চিত জয়লাভ করতে। ডা. শহিদুল আলম না আসতে পারলে এখানে নিশ্চিত বিএনপির ভরাডুবি হবে। এই আসনটি নিশ্চিতভাবে হাতছাড়া হয়ে যাবে। এজন্য শহিদুল আলমের নমিনেশন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।’

এ সময় বক্তারা আরও বলেন, কাজী আলাউদ্দিনের নমিনেশন মানি না মানব না। কাজী হটাও, ধানের শীষ বাঁচাও বলে তারা স্লোগান দেন এবং বলেন, বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া কাজী আলাউদ্দিনের জনপ্রিয়তা শূন্য। তাকে সাধারণ মানুষ চেনে না। এজন্য এই জনসমাবেশ থেকে কাজী আলাউদ্দিনকে আমরা কালীগঞ্জে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করলাম। অবিলম্বে তার নমিনেশন বাতিল করে ডাক্তার শহিদুল আলমকে নমিনেশন ফিরিয়ে দেওয়া হোক বলে দাবি করেন জনসভার বক্তারা। সাতক্ষীরা-৩ আসনে বিএনপিকে বিজয়ী করতে জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা কাজী আলাউদ্দীনের মনোনয়ন বাতিল করে বিএনপির দুঃসময়ের কাণ্ডারি ডা. শহিদুল আলমকে মনোনয়ন প্রদানের জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের সিনিয়র নেতাদের নিকট আকুতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন- লাগাতার আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী বিএনপি নেতা ও নলতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য শেখ নুরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও বিঞ্চুপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও ইউপি সদস্য শেখ খায়রুল আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক শেখ রবিউল ইসলাম, সাবেক স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক এসএম হাফিজুর রহমান বাবু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সদস্য রাজু আহমেদ জাকির, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আসাদুজ্জামান খোকা, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম নজু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জিন্নাত খান, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী মিসেস ডলি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এসএম সেলিম আহম্মেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আল মামুন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শেখ আলাউদ্দিন সোহেল, সদস্য সচিব শেখ আব্দুল আজিজ, উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মো. সেলিম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফরহাদ সাদ্দাম, যুগ্ম আহ্বায়ক আল মামুন, অলিদ হোসেন, সদস্য সচিব শেখ পারভেজ ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মো. ইব্রাহিম হোসেন, নলতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. কিসমাতুল বারী, সাধারণ সম্পাদক মিলন সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইয়াকুব হোসেন প্রমুখসহ আশাশুনিয়া উপজেলার সিনিয়র নেতারা।

এ সময় উপজেলা বিএনপির নেতারা, বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপির নেতারা এবং সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ হাজার হাজার নারী-পুরুষ হিন্দু মুসলিম সর্বসাধারণ উপস্থিত থেকে কাজী আলাউদ্দীনের নমিনেশন বাতিল চেয়ে স্লোগান দেন। বিগত ২ অক্টোবর শুরু করে লাগাতার এই আন্দোলন কর্মসূচিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জেলার কালীগঞ্জ ও আশাশুনির জনপদ।