পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনা সংক্রান্ত মক ভোটিং অনুষ্ঠিত

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনা পদ্ধতি যাচাই ও প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে মক ভোটিং কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে এ কার্যক্রম শুরু হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন- ইটিআই-এর মহাপরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. সালীম আহমেদ খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাকির হোসেনসহ পোস্টাল ভোট গণনা প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

নির্বাচন কমিশনের সিস্টেম অ্যানালিস্ট মামুনুর হোসেন বাসসকে জানান, এই মক ভোটিংয়ে কোনো নির্বাচনী দল সংশ্লিষ্ট নয়- এমন পাঁচটি প্রতীক ব্যবহার করে পোস্টাল ব্যালটের ভোট গ্রহণ ও গণনার একটি পূর্ণাঙ্গ ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পোস্টাল ভোট গণনার পদ্ধতিতে কোনো ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে কি না, তা নির্ণয় এবং প্রয়োজনে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়াই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ। তিনি আরও জানান, প্রায় ১ হাজার ২০০টি পোস্টাল ব্যালটের খাম নিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। একই সঙ্গে বাস্তব নির্বাচনের সময় প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালট গণনায় কত সময় লাগবে এবং সেই কাজে আনুমানিক কতজন পোলিং অফিসারের প্রয়োজন হবে তা নির্ধারণ করাও এই মক ট্রায়ালের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। সকালে পোস্টাল ভোট গণনার কার্যক্রম পরিদর্শনকালে দেখা যায়, পোস্টাল ব্যালটের জন্য নির্ধারিত দুটি খামের ভেতর থেকে প্রথমে হলুদ খামগুলো আলাদা করা হচ্ছে। রিটার্নিং অফিসারের উপস্থিতিতে এসব খাম থেকে ঘোষণাপত্র বের করে তার সঠিকতা যাচাই করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মামুনুর হোসেন জানান, ভোটারের পরিচয়ের গোপনীয়তা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত রাখতে প্রতিটি খাম থেকে প্রথমে শুধু ঘোষণাপত্রই বের করা হচ্ছে এবং সেটির বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে। কোনো ঘোষণাপত্রে সঠিক স্বাক্ষর না থাকলে সেটিকে বাতিল ঘোষণা করে রিটার্নিং অফিসার সিল ও স্বাক্ষর দিচ্ছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট কাগজও বাতিল হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ইটিআই ভবনের সম্মেলন কক্ষে ঘুরে দেখা যায়, বৈধ ঘোষণাপত্র, গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট কাগজ আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এরপর পৃথকভাবে গণভোট ও জাতীয় সংসদের ব্যালট কাগজের বৈধতা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এক পর্যায়ে ভোট গণনা শেষে ব্যালট কাগজগুলো কীভাবে ভাগে ভাগে বস্তাবন্দি করে সিলগালা করে রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই পুরো কার্যক্রম চলাকালে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে লিপিবদ্ধ করেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।