ঢামেক অর্থোপেডিক বিভাগে ‘এক শয্যায় এক রোগী’, কমেছে সংক্রমণের হার

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি হাসপাতালের চিরাচরিত উপচে পড়া ভিড় আর মেঝেতে রোগী থাকার দৃশ্য বদলে দিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগ। ‘এক শয্যায় এক রোগী’ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আধুনিক মডুলার থিয়েটারে সংক্রমণহীন অস্ত্রোপচারের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে এই বিভাগ। কঠোর শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখায় হাসপাতাল থেকে ছড়ানো সংক্রমণের হারও এখন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগে অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে ‘এক শয্যায় এক রোগী’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ওয়ার্ডগুলো অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন এবং নির্দিষ্ট সময় ছাড়া রোগীর স্বজনদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ। নিয়ম মানাতে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা মাইকে নিয়মিত নির্দেশনা দিচ্ছেন এবং পুরো বিভাগটি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

অর্থোপেডিক সার্জারী বিভাগে গিয়ে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৫ সালের শুরুতে অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম আকনের উদ্যোগে এখানে প্রথমবারের মতো মডুলার অপারেশন থিয়েটার (ওটি) চালু করা হয়। উন্নত বায়ু পরিশোধন ও পজিটিভ প্রেসার সিস্টেম সংবলিত এই ওটি অত্যন্ত নিরাপদ। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এই বিভাগে প্রায় ২ হাজার ৯০০টি বড় ও জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে, যার একটিতেও পরবর্তীতে সংক্রমণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত এক সরকারি হাসপাতালের এমন সাফল্যকে বিরল ও জনস্বাস্থ্য সেবার একটি নতুন মানদ- হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ জাকির হোসেন বাসসকে জানান, বর্তমানে এই বিভাগে কাগজের ব্যবহার কমিয়ে সম্পূর্ণ কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। নিজস্ব উচ্চণ্ডক্ষমতার সার্ভার ও ১০০ এমবিপিএস গতির ফাইবার অপটিক লাইনের মাধ্যমে রোগী ভর্তির সঙ্গে সঙ্গেই তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সম্মতিপত্র এবং চিকিৎসার সব পরিকল্পনা ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়। ফলে ফাইল হারিয়ে যাওয়া বা তথ্যের অভাবে চিকিৎসায় বিলম্বের কোনো সুযোগ নেই।

চিকিৎসকরা এখন স্ক্রিনে রিয়েল-টাইম তথ্য দেখে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন, যা রোগীদের ভোগান্তি শূন্যের কোঠায় নামিয়েছে।

চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রেও এসেছে আধুনিকতা। মডুলার ওটি-র সঙ্গে সংযুক্ত ডিজিটাল ক্লাসরুমের মাধ্যমে প্রতিদিন সকালে শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে বসেই সরাসরি লাইভ অস্ত্রোপচার দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে তারা জটিল বিষয়গুলো হাতে-কলমে শিখতে পারছেন। এমনকি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা অনলাইনে যুক্ত হয়ে এখানে মতবিনিময় করছেন, যা এই বিভাগকে বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলছে।