সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীতে অবস্থিত একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ভয়ভীতি, হুমকি-ধামকি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহিউদ্দিন আলমগীরসহ ১৩ জনের নামে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। গত সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসানের আদালতে বাদী হয়ে এই মামলা করেন ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (ইইউবি) লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক পরিচালক লুৎফর রহমান।
মামলাটি আদালত আমলে নিয়েছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।”
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়া এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন, মহিউদ্দিন খান আলমগীরের সাবেক পিএস ফারজানা আলম, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি মকবুল আহমেদ খান, ওয়াসিউজ্জমান লেলিন (কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি), এম এইচ খান মঞ্জু (বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা), মশিউর রহমান, ইমরান মিয়া, মেহেদি হাসান, ইমরান, রফিকুল ইসলাম, মনির হোসেন, মুন্সি আব্দুর রহমান ও মামুন ডাকুয়া।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা ইইউবির ক্যাম্পাসে অনধিকার প্রবেশ করে বাদী ও সাক্ষীকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানি করে আসছে। আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে বাদী ও সাক্ষীগণকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মহিউদ্দিন খান আলমগীর ইইউবির সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। আসামি ফারজানা আলম ও সাবেক ভিসি মকবুল আহমেদ খান আওয়ামী লীগের দোসর এবং মহিউদ্দিন খান আলমগীরের ব্যবসায়ীক পার্টনার। আরেক আসামি ওয়াসিউজ্জমান লেলিন কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি এবং অন্য আসামিরা ভাড়াটে সন্ত্রাসী।
মামলার বাদী লুৎফর রহমান বলেন, “আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য করে বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ইইউবি দখলের চেষ্টা করছেন মকবুল আহমেদ খান। গত ২২ জানুয়ারি দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে মিরপুরে অবস্থিত ইইউবি ক্যাম্পাসে বহিরাগত একদল সন্ত্রাসী নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে আসামি মকবুল। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান চেয়ারম্যান আহমেদ ফরহাদ খান তানিমের কক্ষের সামনে থাকা নেমপ্লেট খুলে নিয়ে যায় তারা। এতে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গত ২২, ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি টানা তিনদিন এ সংক্রান্ত হামলা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে।”
বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনজীবী ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান জানান, ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিভাগ সিভিল রিট পিটিশন নম্বর ৪০৩৫/২৫ মামলার রায়ে ড. মকবুল আহমেদ খানকে একা ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেন। বয়সজনিত কারণে প্রয়োজনে একজন সহযোগী সঙ্গে নিতে পারবেন বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।
