জুলাই সনদ তরুণদের রক্ত দিয়ে তৈরি, ‘হ্যাঁ’ ভোট দেশের ভবিষ্যৎ

বললেন আলী রীয়াজ

প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘জুলাই সনদে মানুষের মুক্তির কথা বলা হয়েছে। একটি জবাবদিহিতামূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কথা বলা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন, বিচার বিভাগ এবং সরকারি কর্ম কমিশন স্বাধীন করার কথা বলা হয়েছে। জুলাই সনদে এমন কিছু নেই, যা আপনি সাধারণ মানুষকে বোঝাতে পারবেন না।’

গতকাল সোমবার সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সভার আয়োজন করে।

আলী রীয়াজ বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ যে পরিবর্তন চায় তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে আপনারা। আপনারা যখন ডাক দিয়েছেন, দেশের মানুষ তখন রাস্তায় নেমে এসেছে কী কারণে? এসেছে, কারণ তারা পরিবর্তন চায়, আপনাদের ওপর তারা আস্থা রেখেছে। এক তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী ৩৭ বছরের নিচে। যে ১৩ কোটি ভোটার আছে তার মধ্যে পৌনে ৫ কোটি ভোটারই হচ্ছে ৩৭ বছরের নিচে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ তাদের হাতেই গড়ে উঠবে। সেজন্য আমি তরুণদের বলছি, জুলাই জাতীয় সনদ শুধু একটা দলিল নয়, এটা তোমার এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। কারণ এটা তরুণদের রক্ত দিয়ে তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে তরুণরা যাতে জবাবদিহিতামূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় জীবনযাপন করতে পারে, নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়, সুরক্ষিত হয় সেজন্য গণভোটে হ্যাঁ হলো সেই লড়াইয়ের অংশ।’

শহীদদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যে বয়সেরই হই না কেন শহীদদের আত্মদানকে যদি আমরা যথার্থ মনে করি, যদি কোনও দায় অনুভব করি তবে দুই-পাঁচ জনকে আপনি গণভোটের কথা বলুন। গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশে যে সুযোগ তৈরি হয়নি সে সুযোগ কাজে লাগানোর এখনই সময়।’

জুলাই যোদ্ধাদের কাছে আমাদের কী কোনও দায় নেই এমন প্রশ্ন রেখে তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ে যারা আহত হয়েছেন তারা অনেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারছেন না, হয়তো কখনও পারবেন না। যারা দেশের জন্য প্রাণ দিতে রাজি হয়েছিল তাদের জন্য আমাদের কোনও দায় থাকবে না, এটা হতে পারে না। আমরা কী অপেক্ষা করবো- সরকার কী বলবে? রাজনীতিবিদ কী বলবে? মঞ্জুরি কমিশন কী বলবে? এনজিও কী বলবে? তার জন্য। কাজেই বাংলাদেশের পরিবর্তন চাইলে সরকারি ঘোষণার ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেককে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে গণভোটে হ্যাঁ-এর প্রচারে অংশ নিতে অনুরোধ করছি আমি।’

৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয় মাস ধরে বহুবার আলোচনার পরও গণভোটের প্রয়োজন হচ্ছে কেন সে বিষয়ে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমরা সকলে রাজনীতি করি না। সর্বোপরি সংবিধানের সাত অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে প্রজাতন্ত্রের মালিক হচ্ছে জনগণ। তাদের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের প্রকাশ ঘটেছে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। আমরা আরেকবার সেই অভিপ্রায়ের প্রকাশ দেখতে চাই। যাতে ভবিষ্যতে এগুলো সুরক্ষা করা যায়। সেই সুরক্ষার জন্য, সেই প্রচেষ্টার জন্য আমাদের প্রত্যেকের ভূমিকা আছে।’

তিনি বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের ব্যালট সাদা আর গণভোটের ব্যালট গোলাপি। গণভোটের মার্কা হচ্ছে টিক চিহ্ন। যারা শুধু মার্কা দিয়ে বুঝতে চায়, তাদের সেটাই বোঝান। এই সুযোগ হেলায় হারানো যাবে না, অনেক প্রাণ, অনেক আত্মদান এবং অনেক কিছুর বিনিময়ে আমরা এটি পেয়েছি।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপউপাচার্য ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য, ছাত্রপ্রতিনিধি, আহত জুলাইযোদ্ধা এবং জুলাই শহীদ সাকিব আনজুমের বাবা মো. মাইনুল হক প্রমুখ সভায় বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সুধীজন এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।