প্রশ্ন শিক্ষামন্ত্রীর
নিজ সন্তান অন্য স্কুলে, আপনি কি সত্যিকারের শিক্ষক
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষকদের প্রশ্নে করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা গতানুগতিক ধারায় চলায় বেকারত্ব বাড়ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সামঞ্জস্য রাখতে পারছে না। কিন্তু শিক্ষা বেকারত্ব বাড়ানোর জন্য নয়, বরং তা বেকারত্ব কমানো ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করে কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও যুগোপযোগী করা হবে।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার রাজধানীর মিরপুরে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আপনি একজন শিক্ষক হয়ে যখন আপনার সন্তানকে অন্য স্কুলে পড়ান তাহলে আপনি কি সত্যিকারের শিক্ষক? এ দেশের পরিবর্তন আনতে গেলে একটি জায়গায় কাজ করতে হবে, সেটি শিক্ষা। প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের অনুরোধ জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আপনারা নিজের সন্তানদের মতো ছাত্র-ছাত্রীদের শেখাবেন। আমার এলাকায় দেখতে পাই শিক্ষকরা নিজের সন্তানদের অন্য স্কুলে পড়াচ্ছেন। শিক্ষকদের অন্তরদৃষ্টিতে দেখতে হবে। আপনি শিক্ষক হয়ে যখন আপনার সন্তানকে অন্য স্কুলে পড়ান তাহলে আপনি কি সত্যিকারের শিক্ষক?
তিনি বলেন, এ দেশের পরিবর্তন আনতে গেলে একটি জায়গায় কাজ করতে হবে, সেটি শিক্ষা। আমরা শিক্ষকরা প্রতিজ্ঞা করি এই জীবনে যত ছাত্র-ছাত্রী পাবো সবাইকে নিজের সন্তানের মতো শিক্ষিত করে গড়ে তুলবো।
দুর্নীতির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি পাঁচটি বছর মন্ত্রী ছিলাম, আমার বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতির মামলাও হয়নি। আমাদের প্রত্যেকের দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হবে। আপনি ক্লাসরুমে গিয়েছেন ক্লাস নেওয়ার জন্য, কিন্তু আপনি ক্লাস না নিয়ে শুধু সময় কাটিয়ে গেলেন, এটি কি দুর্নীতি নয়? তিনি আরও বলেন, আমরা খাওয়ার সময় শুধু হালাল-হারাম চিন্তা করি, অন্য সময় তা চিন্তা করছি না। শিক্ষকরা চিন্তা করবো আমার দায়িত্ব কী এবং আমি কী করতে চাচ্ছি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা যদি ক্লাসরুমের প্রত্যেকটি বাচ্চাকে নিজের সন্তান মনে করে শিক্ষা দেন, তাহলে একটি বাচ্চাও ঝরে পড়তে পারে না। আজকের এই দিনে আগামী বাংলাদেশ গড়ার শপথ আমাদের শিক্ষকদের নিতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন আনতেই হবে এবং এটাকে যুগোপযোগী করতেই হবে।
শিক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে : শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার ভিত্তি শক্ত করতে হবে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। শনিবার রাজধানীর মিরপুরে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি জাতির অগ্রগতি তার ভিত্তির ওপর নির্ভরশীল। সেই ভিত্তি হতে হবে দুর্নীতিমুক্ত, নৈতিকতায় দৃঢ় এবং সুশাসনভিত্তিক। শক্ত ভিত তৈরি করা গেলে তার ওপর দাঁড়িয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। অন্যের ওপর নির্ভর করে নয়, নিজেদের দায়িত্ব নিজেরাই নিয়ে সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। দায়িত্বহীনতা ও দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হলে প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে সৎ ও নিষ্ঠাবান হতে হবে। তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের আত্মত্যাগ, সাহস ও দেশপ্রেম দেশবাসী দেখেছে। তবে, শুধু আবেগ বা সাময়িক উদ্দীপনায় দেশ বদলায় না। পরিবর্তন আসে ধারাবাহিক দায়িত্বশীল কাজের মাধ্যমে, কর্মক্ষেত্রে সততা ও নিষ্ঠার চর্চার মাধ্যমে।
ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, দেশপ্রেমের প্রকৃত প্রমাণ দিতে হলে স্লোগানে নয়, কাজে দেখাতে হবে। দুর্নীতিমুক্তভাবে, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে দেশের ভিত্তি আরও শক্ত হবে। তিনি শিক্ষার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, কারিকুলাম, ক্লাসরুম এবং কনসিস্টেন্সি। সঠিক পাঠ্যক্রম, কার্যকর শ্রেণিকক্ষ পরিবেশ এবং ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গেলে আগামীর বাংলাদেশ সত্যিকারের সোনার বাংলাদেশে পরিণত হবে।
