চীন থেকে সুপারসনিক জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে যাচ্ছে ইরান

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আলোতিক ডেস্ক

চীন থেকে সুপারসনিক জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে যাচ্ছে ইরান। এ বিষয়ে একটি চুক্তির কাছাকাছি রয়েছে দেশ দুইটি। ছয়টি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি হিসেবে ইরান উপকূলের কাছে বড় নৌবহর মোতায়েন করছে।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়জনের তথ্য অনুযায়ী, চীনে নির্মিত সিএম- ৩০২ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। তবে সরবরাহের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। প্রায় ২৯০ কিলোমিটার পাল্লার এই সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিচু উচ্চতায় ও উচ্চগতিতে উড়ে জাহাজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ইরানের আঘাত হানার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য হুমকি তৈরি করবে। গত বছরের জুনে ইসরায়েল-ইরান ১২ দিনের যুদ্ধের পর আলোচনা দ্রুত অগ্রসর হয়। আলোচনার শেষ পর্যায়ে ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তারা চীন সফর করেন। ইসরায়েলের থিংক ট্যাংক ইন্সটিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি সিত্রিনোভিচ বলেন, ইরান যদি সুপারসনিক সক্ষমতা পায়, তা পুরো পরিস্থিতিই বদলে দেবে। এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। চুক্তিতে কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে বা মূল্য কত- তা স্পষ্ট নয়। এমন খবর প্রকাশের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তারা অবগত নয়। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও মন্তব্য করেনি। এই ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি হলে তা ২০০৬ সালে আরোপিত জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার পরিপন্থি হবে। ২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তির অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হলেও গত সেপ্টেম্বর তা পুনর্বহাল করা হয়। সম্ভাব্য এই চুক্তি চীন-ইরান সামরিক সম্পর্কের গভীরতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে জটিল করতে পারে।