দেশে কিডনি রোগী বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ২০১৯ সালে প্রকাশিত আটটি গবেষণার ওপর একটি সিস্টেমেটিক রিভিউ অনুযায়ী দেশে কিডনি রোগে আক্রান্তের হার প্রায় ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে এ হিসাব ধরলে কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ।

প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হচ্ছে এবং নতুন রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে বা বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। বর্তমানে মৃত্যুর কারণ হিসেবে কিডনি রোগের অবস্থান অষ্টম; ২০৪০ সালের মধ্যে এটি পঞ্চম স্থানে উঠে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) শহীদ ডা. মিল্টন হলে বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এসব বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব ডা. মো. ফরহাদ হাসান চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুল মুকীত, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. রেজাউল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. শাহনেওয়াজ দেওয়ান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেজবাহ উদ্দিন নোমান প্রমুখ। বক্তারা বলেন, কিডনি রোগ প্রতিরোধমূলক সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ ও স্ক্রিনিং সম্প্রসারণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কিডনি সেবাকে অন্তর্ভুক্ত ও শক্তিশালী করা, কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পর্কে গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মরণোত্তর কিডনি প্রতিস্থাপন সফল করার আহ্বান জানানো হয়। ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবায়িত হলে কিডনি রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। কারণ কিডনি রোগ দীর্ঘদিন নীরবে বৃদ্ধি পায় এবং সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা না পাওয়ায় এ রোগ জটিল আকার ধারণ করে।’ বলেন বক্তারা। সমাবেশে বক্তারা কিডনি রোগ প্রতিরোধের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, কিডনি রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হলেও রোগ নির্ণয়ের ব্যয় তুলনামূলক কম। তাই রোগ নির্ণয়ে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।