ব্র্যাক ব্যাংক বিক্রয় বিভাগের নারী কর্মীরা কেন সার্থক?

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আলোকিত ডেস্ক

শাহিদা খানম ব্র্যাক ব্যাংকের রিটেইল বিক্রয় বিভাগে কাজ করছেন প্রায় ছয় বছর। এই সময়ে সংসার সামলানোর পাশাপাশি ব্যাংকের বিভিন্ন পণ্য ও সেবা বিক্রয়ের কাজগুলো রপ্ত করেছেন দক্ষতার সঙ্গে, নিজেকে নিয়ে গেছেন সেরা পারফর্মারদের তালিকায়। শাহিদা বলেছেন, ব্র্যাক ব্যাংক নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নে আলাদা মনোযোগ দেয়। ফলে, পারফরম্যান্সও ভালো হয়।

ব্যাংকটির আরেক বিক্রয় কর্মকর্তা কনিকা আক্তারের মতে, নারীদের প্রচেষ্টার পাশাপাশি ব্র্যাক ব্যাংকের পজিটিভ ব্র্যান্ড ইমেজ তাদের কাজকে আরও সহজ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, “গ্রাহকেরা ব্র্যাক ব্যাংককে দেশের সবচেয়ে নিরাপদ ব্যাংক হিসেবে মনে করেন। ফলে তাঁদের কাছে গিয়ে আমাদের কখনো ব্যাংকের বিষয়ে আলাদা করে কিছু বলতে হয় না।” শাহিদা ও কনিকার মতো অন্তত ২০০ নারী কর্মকর্তা কাজ করছেন ব্র্যাক ব্যাংকের রিটেইল ও এসএমই ডিভিশনের অধীনে বিক্রয় বিভাগে। ব্যাংকটি জানিয়েছে, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সেলস টিম পরিচালনা করছে ব্র্যাক ব্যাংক।

ভালো পারফরম্যান্সের নেপথ্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টা : ব্র্যাক ব্যাংকের নারী কর্মীরা ভালো পারফর্ম করার নেপথ্যে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাকেই সামনে এনেছেন। ব্র্যাক ব্যাংকে টানা ১২ বছর ধরে কর্মরত এসএমই বিভাগের ঊর্ধ্বতন বিক্রয় কর্মকর্তা উম্মে হাবিবার মতে নারী কর্মীরা আকর্ষণীয় বেতনের চাইতে কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা ও সহযোগিতার মনোভাবকে বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, এসএমই বিভাগে যোগ দেওয়ার একমাস পরই আমাকে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে চলে যেতে হয়েছিল। তখন আমার সিনিয়ররা খুব সাপোর্ট করেছেন, সবাই বিষয়টিকে সহজভাবে নিয়েছিলেন। এটি আমার মধ্যে একটা ভালো লাগা তৈরি করেছিল।

ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মীদের নিয়মিত ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হয় উল্লেখ করে হাবিবা বলেন, সহকর্মীদের কাছে থেকে আমরা নিয়মিত কাজের মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পাই, এটা আমাদের উৎসাহ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া এখানে আমরা কাজ করার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা পাই, ফলে কাজটাকে বোঝা মনে হয় না। রিটেইল বিক্রয় বিভাগের কর্মকর্তা জেবিন আক্তার মৌসুমী বলেন, “ব্র্যাক ব্যাংক টেকনোলজিক্যাল ডেভেলপমেন্টে অনেক এগিয়ে থাকায় আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গ্রাহকদের বিভিন্ন সেবা ডিজিটালি দিতে পারি। ফলে শারীরিক পরিশ্রম করার সক্ষমতার ক্ষেত্রে পুরুষদের সঙ্গে আমাদের ব্যবধান কমে আসে, যা আমাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।”