থানায় ঢুকে ওসিসহ পুলিশ সদস্যদের মারধরের মামলায় জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ওসিসহ একাধিক পুলিশ সদস্যকে মরাধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মিজানুর রহমান মিজান (৩৫) নামে এক জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান সারোয়ারে আলম। এর আগে ভোররাতে থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে গৃধারীপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান মিজান পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের পেশাজীবী বিভাগের বর্তমান সেক্রেটারি ও গৃধারীপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। এছাড়াও তিনি পলাশবাড়ী পৌর জামায়াতের সাবেক আমির ও ১৩/১৪ সালের পলাশবাড়ী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন।

গত ২৫ মার্চ রাত ১০টার কিছু সময় আগে পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশ কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে একটি অভিযোগ পত্রসহ পলাশবাড়ী থানায় যান এবং ওসির সঙ্গে কথাবার্তার একপর্যায়ে তর্কবিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়- জামায়াত নেতা পলাশ থানার ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে অমীমাংসিত একটি খোলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বলেন এবং চাপ প্রয়োগ করেন। শেষ পর্যন্ত ওসি রাজি না হলে ওই নেতাসহ তার সঙ্গে থাকা যুবকরা ওসির ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে ওসিকে আক্রমণসহ মারধর করেন। এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদেরকেও মারধর করা হয়, এতে এক নারী কনস্টেবলসহ পুলিশের নয় সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় পলাশবাড়ী থানার আহত এএসআই রুহুল আমিন বাদী হয়ে ২৬ মার্চ নামীয় ৯ জন ও ১২ থেকে ১৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের বায়তুল মাল সম্পাদক পলাশ আহমেদকে (৩৫)। অন্য আসামিরা হলেন- একই গ্রামের মাহফুজ রহমান সিনহা (২৮), তৌহিদুল ইসলাম কানন (৩৩), মেহেদী হাসান (৩৫), সাদ্দাম হোসেন (৩০) ও শাওন (৩৫)। এছাড়াও বৈরীহরিনামারী গ্রামের গোলজার রহমান (৩২), পূর্ব গোপিনাথপুর গ্রামের সবুজ মিয়া (৩২) ও জামালপুর গ্রামের আব্দুল মালেককে (৩৭) আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার দিনই ঘটনাস্থল থেকে তৌহিদুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে এই মামলায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তৌহিদুল ইসলাম দৈনিক গণকন্ঠের পলাশবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে এ মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ।

পলাশবাড়ী থানার ওসি খান সারোয়ারে আলম বলেন, থানা পুলিশ ও ডিবির যৌথ অভিযানে ভোররাতে জামায়াত নেতা মিজানকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি এ মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি।