শাহবাগে নাগরিকদের ওপর হামলার নিন্দা

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

শাহবাগে সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছে নাগরিক সমাজ। এতে সই করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মানবাধিকারকর্মী, ট্রান্সঅধিকারকর্মী, শিল্পী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের মোট ৩৭০ জন বিশিষ্ট নাগরিক। গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় ‘আজাদী আন্দোলনের’ ব্যানারে পরিচালিত হামলায় আড্ডারত একদল মানুষের ওপর ‘সমকামী’ ও ‘ট্রান্সজেন্ডার’ আখ্যা দিয়ে শারীরিক আক্রমণ চালানো হয়; একইসঙ্গে নারীদের ওপর যৌন হয়রানির ঘটনাও ঘটে।

এর আগেও গত ৩ এপ্রিল একই স্থানে আড্ডারত দৃশ্যমান হিজড়া ও ট্রান্সনারী সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর ‘মোবাইল সাংবাদিকতার’ নামে যৌন হয়রানি ও শারীরিক নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা জোরপূর্বক ক্যামেরা ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর ও অযাচিত প্রশ্ন করতে থাকে। ভুক্তভোগীরা প্রতিবাদ জানিয়ে সরে যেতে চাইলে তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে হয়রানি অব্যাহত রাখা হয়। পরে কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ছাড়াই আট জন হিজড়া ও ট্রান্সনারী ব্যক্তিকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।

তারা দুই দিন পর্যন্ত কোনও আইনি সহায়তা বা আইনজীবীর সুযোগ পাননি এবং পুলিশি হেফাজতে অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে অবস্থান করতে বাধ্য হন। পরে তাদের বিরুদ্ধে ‘পাচার’-সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হয় এবং কোনও প্রমাণিত অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও জরিমানা ও মুচলেকার মাধ্যমে মুক্তি পেতে বাধ্য করা হয়। নাগরিকদের ওপর প্রকাশ্যে সংঘটিত এসব হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মানবাধিকারকর্মী, ট্রান্সঅধিকারকর্মী, শিল্পী ও সমাজকর্মীসহ নাগরিক সমাজ তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

আমরা মনে করি, এই ঘটনাগুল বিচ্ছিন্ন নয়; বরং লিঙ্গ, ভাষা, জাতিগত ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার হরণের লক্ষ্যে চলমান বিদ্বেষমূলক প্রচারণার ধারাবাহিক বহিঃপ্রকাশ। বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ‘আজাদী আন্দোলনের’ আড়ালে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো এই হামলায় সম্পৃক্ত ছিল। উপস্থিত অনেকেই গুরুতরভাবে আহত হন এবং যৌন নিপীড়নের শিকার হন। ঘটনাস্থলে শিক্ষক, পেশাদার সাংবাদিক, অধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক কর্মীরা ভুক্তভোগীদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন।