বন্যা ও বজ্রপাতে গবাদিপশু মারা গেলে সরকার সহায়তা দেবে
জানালেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী
প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, সরকার হাওরাঞ্চলে সেড বা বন্যাশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করবে। এছাড়াও হাওরে বজ্রনিরোধক টাওয়ার বসানো হবে। যাতে বজ্রপাতের সময় সিগনাল বা সাইেরেনের বাজে। যাতে কৃষকরা দ্রত টাওয়ারে আশ্রয় নিতে পারেন। বজ্রপাতে যারা মারা যান তাদের তো জীবনের মূল্য দেওয়া যায় না। আমরা তাদের আর্থিক সহায়তা দেব। আগে সহায়তার পরিমাণ কম ছিল, আমরা এই সহায়তা দিগুণ করব। জরুরি ভিত্তিতে আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তা করা হবে। তিনি বলেন, আমরা এবার নীতিমালা সংশোধন করেছি বন্যা ও বজ্রপাতে গবাদি পশু অর্থাৎ গরু, মহিষ ও ছাগল মারা গেলে কৃষককে সরকার আর্থিক সহায়তা দেবে।
গতকাল মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অতিবৃষ্টিপাতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তিনমাস মেয়াদি সহায়তা প্রদান কার্যক্রম নিয়ে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তবে তিনি এসব কথা বলেন।
বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা দুর্নীতিমুক্ত ও নির্ভুলভাবে করার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হাওরের এ অবস্থায় প্রথমদিন থেকেই ব্যতিব্যস্ত ছিলেন, তিনি আমাদের পাঠিয়েছেন আমরা যেন প্রকৃত চিত্র প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে পারি। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। এজন্য হাওরে আর ঠিকাদার পোষা, আর এদিক-ওদিক করার প্রকল্প হবে না। হাওরকে নিরাপদ উৎপাদনের ক্ষেত্র হিসেবে তৈরি করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কার্যক্রমের সহায়তা পায় সেই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করতে হবে। আগামী দিনগুলোতে যাতে এমন দুর্যোগ না হয় সেই লক্ষ্যে কাজ করবে সরকার।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পদমর্যাদার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সুনাামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরী, বিএনপি নেতা আকবর আলী ও অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্যরা ও বিএনপির নেতারা সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ৮০ ভাগ ধানা কাটা হয়েছে এমন তথ্যে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ৫০ ভাগ ধান বৃষ্টির পানিতে হাওরে তলিয়ে গেছে। আর যেটুকু কৃষকরা কেটেছেন সেটুকু আবিরাম বৃষ্টির কারণে নতুন ধানে বীজ অঙ্কুরিত হয়েছে এবং কোথাও কোথাও নতুন ধানে চারা গাজিয়েছে। নেতারা ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ পাঠিয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের আহ্বান জানান। পরে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার চেক তুলে দেন।
