১৯২ আরবান হেলথকেয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর
প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
বাসস
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী চিন্তা ও পরিকল্পনার ফলেই দেশের বিভিন্ন নগরে নির্মিত ১৯২টি আরবান প্রাইমারি হেলথকেয়ার সেন্টার স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীনে হস্তান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত বা আংশিক ব্যবহৃত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে পুনরায় জনগণের সেবায় কার্যকরভাবে নিয়োজিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গতকাল সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, একটি প্রকল্পের আওতায় দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশন ও ২৩টি পৌরসভায় এসব আরবান প্রাইমারি হেলথকেয়ার সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, প্রকল্প চলা সময়ে এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে নগর এলাকার বিপুল জনগোষ্ঠী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পেয়েছে। তবে, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রই ধীরে ধীরে অচল বা অব্যবহৃত হয়ে পড়ে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোথাও কোথাও জনবল সংকট, কোথাও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি, আবার কোথাও তদারকির অভাবে কেন্দ্রগুলো কাঙ্ক্ষিতভাবে পরিচালিত হচ্ছিল না। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে এবং জনগণ প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হতে থাকে।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, একটি ভবন বা অবকাঠামো নিয়মিত ব্যবহার না হলে তা দ্রুতই নষ্ট হয়ে যায়। নতুন করে আবার বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে একই ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়।
তিনি বলেন, এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই প্রধানমন্ত্রী একটি কার্যকর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে বিদ্যমান স্থাপনাগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায় এবং জনগণ সর্বোচ্চ সুবিধা পায়।
তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাথে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সম্মতিক্রমে সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, চিঠি জারি হওয়ার মধ্য দিয়েই কার্যত হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে জটিল কোনো আনুষ্ঠানিকতা রাখা হয়নি, যাতে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা যায়।
হস্তান্তর প্রক্রিয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা ইনভেন্টরি প্রস্তুত করা হবে। এরপর তা সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে কেন্দ্রগুলো পরিচালনার পথ সুগম হবে।
