আগামী প্রজন্মকে কারিগরি দক্ষতায় গড়ে তোলা হবে

বললেন শিল্পমন্ত্রী

প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশে দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা এবং আগামী প্রজন্মকে কারিগরি দক্ষতায় গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিশন।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঠাকুরগাঁও বিসিক শিল্পনগরীতে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এলাকা গড়ে তোলা হচ্ছে, যা উত্তরাঞ্চলের কৃষিভিত্তিক শিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গতকাল শনিবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা মৌজায় নির্মাণাধীন ‘বিসিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরী, ঠাকুরগাঁও’ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব ওবায়দুর রহমান এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়াও ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক, প্রকল্প পরিচালক হাফিজুর রহমান, বিসিক জেলা কার্যালয় ও শিল্পনগরী কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্যভিত্তিক শিল্প বিকাশে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিদর্শন শেষে শিল্পমন্ত্রী প্রকল্পের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেন।

উল্লেখ্য, ‘বিসিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরী, ঠাকুরগাঁও’ প্রকল্পটি ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়নাধীন। প্রকল্পের আওতায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা মৌজায় ৫০ একর জমির ওপর আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও শিল্প কমপ্লায়েন্স সমৃদ্ধ শিল্পনগরী গড়ে তোলা হচ্ছে।

এখানে ২৫১টি শিল্প প্লট তৈরি করে প্রায় ২৩০টি শিল্প ইউনিট স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে দুগ্ধ, শাক-সবজি, ফলমূল, চা ও কৃষিজ শস্যসহ স্থানীয় কৃষিপণ্যভিত্তিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিকাশ ঘটবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ সহজ হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পরিদর্শনকালে শিল্পমন্ত্রী স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন।