প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধ না হলে রংপুরে হরতাল অবরোধের হুঁশিয়ারি
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
জনমতকে উপেক্ষা করে প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ করা না হলে রংপুরে হরতাল ও গণঅনশনসহ কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছে মহানগর নাগরিক কমিটি। অবিলম্বে গণশুনানি আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রিপেইড মিটার নিয়ে জনমতকে মূল্যায়ন করার দাবি জানিয়েছে কমিটির নেতৃবৃন্দ।
গতকাল শনিবার দুপুরে রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে গণঅবস্থান কর্মসূচিতে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে নেসকো কর্তৃপক্ষকে লাল কার্ড প্রদর্শন করাসহ গানে গানে প্রিপেইড মিটার স্থাপনে গ্রাহক ভোগান্তি ও নানা হয়রানির কথা তুলে ধরা হয়।
মহানগর নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোজাহার আলীর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগের সঞ্চালনায় সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন সাবেক পৌর চেয়ারম্যান কাজী মোহাম্মদ জুননুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, বাংলার চোখের চেয়ারম্যান তানবীর হোসেন আশরাফী, সংবাদকর্মী আসাদুজ্জামান আফজাল, ফরহাদুজ্জামান ফারুক ও নিপীড়ন বিরোধী নারীমঞ্চের আহ্বায়ক বীথি দাস নন্দিনী।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের প্রবল আপত্তি স্বত্ত্বেও বিদ্যুৎ বিভাগ জবরদস্তিমূলকভাবে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করে চলেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ বিদ্যুৎখাতে চুরি, অপচয় রোধ, ওভারলোড ও বকেয়া বিল ঠেকাতে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যর্থতার দায়ভার গ্রাহকের কাঁধে চাপিয়ে দিতে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করে যাচ্ছে।
নাগরিক কমিটির নেতারা বলেন, বিদ্যুৎ আইনের ৫৬ ধারা মোতাবেক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হলে কোম্পানিকে ১৫ দিন পূর্বে নোটিশ দিতে হবে। কিন্তু প্রিপেইড মিটারে স্থাপনে কোনো নোটিশ ছাড়াই স্থাপন করা হচ্ছে।
এই মিটারের রিচার্জকৃত টাকা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বিছিন্ন হয়ে যায়, যা আইনের পরীপন্থি। বর্তমানে উচ্চ আদালতে গ্রাহক শোষণ ও হয়রানিমূলক প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধে একটি রিট পিটিশন বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু সেই রিট নিষ্পত্তির আগেই হয়রানিমূলকভাবে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার বলেন, প্রিপেইড মিটার সংযোগ বাধ্য করতে নেসকো কর্তৃপক্ষ বাসা-বাড়িতে গিয়ে জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি পূর্বের মিটারের বিদ্যুৎ বিল সরবরাহ বন্ধ রেখেছে।
কৃষক আব্দুস সাত্তার প্রামাণিক বলেন, প্রিপেইড মিটার পদ্ধতিতে কৃষি অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইতিপূর্বে আমরা বাকিতে বিদ্যুৎ নিয়ে ফসলের জমিতে সেচ কাজ পরিচালনা করেছি। ফসল তোলার পর বিক্রি করে পরিশোধ করেছি। এখন আর সেটি সম্ভব নয়।
নাগরিক কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল জব্বার সরকার বলেন, আগাম টাকা দিয়ে আমরা বিদ্যুৎ ক্রয় করবো আর কোম্পানিগুলো জনগণের অর্থ ব্যবসায় বিনিয়োগ করবে, সেটি আমরা মেনে নিতে পারি না। এটা সেবামূলকখাতের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অবস্থান কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধ, বিদ্যুৎখাতে বিগত সময়ের অনিয়ম-দুর্নীতি ও লুটপাটের শ্বেতপত্র প্রকাশ, গ্রাহক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গণশুনানি ব্যতিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না নেওয়া এবং সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, সারা দেশে সব মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবার আওতায় নিয়ে আসা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তাই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বিতর্কিত প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম স্থগিত করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা এবং গ্রাহকদের মতামত গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হোক। অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধ করা না হলে হরতাল-অবরোধ, গণঅনশন ও বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করাসহ কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ। এ কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে সংগঠক কনক রহমান, শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সদস্য সবুজ রায়, আশিকুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দীন সুমন, মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট খায়রুল ইসলাম বাপ্পী, আব্দুল জব্বার সরকার, আমিন মোস্তাজীর, মাহফুজ হোসেন, সমাজকর্মী নুরন্নবী বুলবুল, কৃষক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য আব্দুস সাত্তার প্রামাণিক বক্তব্য দেন।
