মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অভিযান
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আলোকিত ডেস্ক

দেশের সমুদ্রসীমা, সামুদ্রিক সম্পদ এবং জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সমুদ্রসীমায় অবস্থানরত জ্বালানিবাহী জাহাজসমূহের নিরাপত্তা বিধানেও বাংলাদেশ নৌবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একইসঙ্গে দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতকরণ এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়মিতভাবে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে। এ ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ‘জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রমণ্ড২০২৬’ এবং ১৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ‘বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিন সকল প্রকার মৎস্য আহরণ বন্ধ কার্যক্রম’ বাস্তবায়নে নিয়োজিত রয়েছে। ‘জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রমণ্ড২০২৬’-এর আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চাঁদপুর, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও বরগুনাসহ দেশের মোট ৯টি জেলায় সমন্বিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানের অংশ হিসেবে বরিশাল এলাকায় বানৌজা তিতাস টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এছাড়াও অন্যান্য জেলায় নৌবাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জাহাজ ও ঘাঁটি মোতায়েন রয়েছে। অভিযান চলাকালীন অবৈধভাবে জাটকা আহরণ প্রতিরোধ এবং ৪৫ সেন্টিমিটার বা তার চেয়ে কম ব্যাস বা ফাঁসবিশিষ্ট নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, মশারি জাল, চায়না দুয়ারি জাল, সুতা জাল ও বাঁধা জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হচ্ছে। আটককৃত অবৈধ জাল স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী ধ্বংস করা হচ্ছে। একইসঙ্গে নদী ও উপকূলীয় এলাকার জেলেদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ ও সচেতন করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত ২৩ সেন্টিমিটারের ছোট আকৃতির ইলিশ বা জাটকা মৎস্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধির নিকট হস্তান্তর করা হয় । উল্লেখ্য, এ অভিযানে অদ্যাবধি প্রায় ৫১৪ কোটি ৬৮ লাখ ৯৩ হাজার ২১০ টাকা মূল্যের ৩ কোটি ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৭০৫ মিটার অবৈধ জাল আটক করা হয়। এছাড়াও, বেহুন্দি, টং জাল, চায়না রিংসহ সর্বমোট ৮৬১টি বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল এবং ৩৭ কেজি জাটকাসহ একটি বোট জব্দ করা হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এ অভিযান আগামী ১৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত চলমান থাকবে। সূত্র : সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
