গবেষণা ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ছাড়া পর্যটনের উন্নয়ন সম্ভব নয়

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

গবেষণা ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ছাড়া বাংলাদেশের পর্যটনের উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। একইসাথে দেশের পর্যটন খাতের দীর্ঘদিনের সংকট, সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে দ্রুত এর সমাধানে নতুন সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা?গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অংশীজনদের সংগঠন ‘ইউনাইটেড ট্যুরিজম স্টেকহোল্ডার্স সোসাইটি অব বাংলাদেশ’ (উৎসব) আয়োজিত এক বিশেষ গোলটেবিল বৈঠকে তারা এসব কথা বলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, গবেষণা ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ছাড়া বাংলাদেশের পর্যটনের উন্নয়ন সম্ভব নয়। নির্ভরযোগ্য গবেষণা, তথ্যভিত্তিক নীতিমালা, দক্ষ জনবল ও সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে বাংলাদেশ তার বিশাল পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারছে না। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর নীতিমালা এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে পর্যটন শিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী খাতে পরিণত হতে পারে। নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, পর্যটন ও এভিয়েশন খাত একে অপরের পরিপূরক হলেও নীতিগত দুর্বলতা ও সমন্বয়ের অভাবে উভয় খাতই কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারছে না। সরকারের উচিত দ্রুত কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করা, যাতে পর্যটন ও এভিয়েশন খাত সমন্বিতভাবে এগিয়ে যেতে পারে। অনুষ্ঠানে এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি তানজিম আনোয়ার বলেন, দেশে অসংখ্য পর্যটন সংগঠন থাকলেও একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত প্ল্যাটফর্?ম গড়ে ওঠেনি। বিভিন্ন সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে ট্যুরিজম ফেয়ার আয়োজন হলেও এখনো আন্তর্জাতিক মানের কোনো ‘ফ্ল্যাগশিপ ট্যুরিজম ফেয়ার’ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ‘উৎসব’ যদি ইনক্লুসিভ প্ল্যাটফর্?ম হিসেবে সব সংগঠনকে একত্র করতে পারে, তাহলে এটি পর্যটন খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। পর্যটন এখনো সরকারের অগ্রাধিকার খাতে পরিণত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) কার্যক্রমের ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বিদেশের উদাহরণ টেনে তানজিম আনোয়ার বলেন, ইন্দোনেশিয়ার বালিতে নারকেল গাছের সঙ্গে বাঁধা দোলনাকে কেন্দ্র করে বড় পর্যটন আকর্ষণ গড়ে উঠেছে, যা লাখো ডলারের ব্যবসা তৈরি করেছে। অথচ বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতিতেও এমন অনেক উপাদান থাকলেও সেগুলোকে পর্যটন পণ্যে রূপ দেওয়া হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও পর্যটন বিশেষজ্ঞ ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতে গবেষণার পরিধি এখনো খুব সীমিত। পর্যটন উন্নয়নে গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা জরুরি। তিনি বলেন, পর্যটন বিষয়ে দক্ষ শিক্ষার্থীদের সরকারি পর্যায়ে যুক্ত করা গেলে দেশের প্রতিটি জেলায় পরিকল্পিত পর্যটন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব।

সেন্টার ফর ট্যুরিজম স্টাডিজের চেয়ারম্যান জামিল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাত স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। এর অন্যতম কারণ খাতটির মধ্যে বিভাজন, গবেষণার অভাব এবং নীতিনির্ধারণে দুর্বলতা। তিনি অভিযোগ করেন, এখনো দেশে কার্যকর ও সমন্বিত পর্যটন আইন বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক সরকার নীতিনির্ধারণ করলেও প্রশাসনিক জটিলতায় অনেক উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়। এ কারণে সরকারের ওপর সমন্বিত চাপ তৈরি করতে বেসরকারি খাতকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।