
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদুল আজহা। ঈদের বাকি আর ৫ দিন। ঈদের আনন্দ পরিবার-প্রিয়জনদের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করছে মানুষ। এতে করে ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। এদিকে পুরোদমে ঈদযাত্রা শুরু না হলেও মহাসড়কে বাসসহ গণপরিবহনের সংকট রয়েছে। এই সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। গতকাল রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের এলেঙ্গা, রাবনা বাইপাস, নগর জলফৈ ও করটিয়া বাইপাস ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এদিকে যাত্রীদের কাছে থেকে চাওয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। অনেকেই আবার খোলা ট্রাক-পিকআপে করে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি যাচ্ছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যমুনা সেতু-ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ঈদ এলেই অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এ মহাসড়ক। বিশেষ করে যমুনা সেতু সংযোগ মহাসড়ক দিয়ে উত্তরাঞ্চলের ২৩ জেলার যানবাহন চলাচল করায় এই অঞ্চলে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
গার্মেন্টসকর্মী আলম হোসেন বলেন, আমি বাইপেল থেকে টাঙ্গাইল আশেকপুর বাইপাস আসলাম ৩০০ টাকা ভাড়া দিয়ে। স্বাভাবিক সময়ে ১০০ টাকা করে আশেকপুর বাইপাস আসি। শুধু আমার কাছে নয়, সবার কাছে থেকেই বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
আরেক গার্মেন্টসকর্মী মোহাম্মদ ইখলাস বলেন, গাজীপুর থেকে আশেকপুর বাইপাস পর্যন্ত আসলাম ২০০ টাকা ভাড়া দিয়ে। ঈদের সময় বাসে আসলেই ভাড়া বেড়ে যায়। স্বাভাবিক সময়ে ৮০-১০০ টাকা লাগে এখানে আসতে। বেশি টাকা দিলেও দাঁড়িয়ে আসতে হয়। মহাসড়কের আশেকপুর বাইপাসে দাঁড়িয়ে থাকা এক যাত্রী আকাশ মিয়া বলেন, আধাঘণ্টা ধরে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছি। যে গাড়ি আসে ভাড়া বেশি চাচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে ৩০০ টাকায় যেতাম, এখন ৫০০ টাকা চাচ্ছে। যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ছে।
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত চাপ সামলাতে এবং দ্রুত টোল আদায়ে মোটরসাইকেলের জন্য দুটি করে মোট ৪টি পৃথক বুথসহ মোট ১৮টি বুথের মাধ্যমে টোল আদায় করা হচ্ছে। সেতুর দুই প্রান্তে রেকার রাখা হয়েছে। এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শরীফ বলেন, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও যানবাহনগুলো স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো যানজট সৃষ্টি হয়নি। স্বাভাবিক গতিতেই যানবাহন চলাচল করছে। যানজট যাতে না হয় সেই জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। মানুষ যাতে নিবিঘেœ গন্তব্য পৌঁছাতে পারে।