‘যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নাক গলাবেন না’, মাস্ককে সতর্ক করলেন স্টারমার

প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আলোকিত ডেস্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের মালিক ও ধনকুবের ইলন মাস্ককে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে নাক না গলানোর বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘মাস্কের উচিত ব্রিটিশ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ বন্ধ করা।’ যুক্তরাজ্যে জনরোষ ও বিক্ষোভ সৃষ্টি করা একটি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মাস্ক এক্সে বিতর্কিত পোস্ট করার পর স্টারমার একথা বলেন।

গত বছর হেনরি নোয়াক নামের ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ ছুরিকাঘাতে আহত হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। এরপর হামলাকারী মিথ্যা দাবি করে বলেন, হেনরি প্রথমে তার ওপর বর্ণবাদী হামলা চালিয়েছেন।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে ব্রিটিশ পুলিশ গুরুতর আহত হেনরিকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে উল্টো তাকেই হাতকড়া পরায়। পরে হেনরির মৃত্যু হয়।

ওদিকে, মিথ্যা অভিযোগ করা শিখ সম্প্রদায়ের ওই হত্যাকারীর সাজা সোমবার ঘোষণা করা হয়েছে।

আদালতের রায় ঘোষণার পর পুলিশের সেই অভিযানের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ পেয়েছে। তাতে দেখা যায়, মুমূর্ষু ও নির্দোষ হেনরির আকুতি আমলে নিচ্ছে না পুলিশ।

এই ভিডিওকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও রাজনৈতিক ঝড় ওঠে। বিশেষ করে বিভিন্ন জাতির মানুষের সঙ্গে পুলিশ কেমন আচরণ করে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।

এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতি নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন ইলন মাস্ক। এক্সে দেওয়া পোস্টে মাস্ক পুলিশি অভিযানের সমালোচনা করেন এবং অন্য ব্যবহারকারীদের করা বেশ কিছু মন্তব্যও তিনি পুনরায় পোস্ট করেন।

গত বুধবার এক পোস্টে মাস্ক লেখেন, ‘পশ্চিমা সমাজ এক চরম অশুভ রাষ্ট্রীয় ধর্ম তৈরি করেছে, যেখানে কাউকে বর্ণবাদী বলাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এমনকি ধর্ষণ বা খুনের চেয়েও বড় অপরাধ বলে ধরা হয়।’

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘মাস্ক কয়েক গত কয়েকদিন ধরে আবার আমাদের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছেন। বিভাজন তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে যুক্তরাজ্য এভাবে পরিচালিত হয় না।’

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্টারমার পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করলেও দেশে বিক্ষোভের নামে সহিংসতার নিন্দা জানান।

স্টারমারের বক্তব্যের বিষয়ে এক্স কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তাদের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের সঙ্গে ইলন মাস্কের দ্বন্দ্ব অবশ্য নতুন নয়। আগেও একাধিকবার স্টারমারের তীব্র সমালোচনা করেছেন এই ধনকুবের।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি স্টারমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। মাস্ক দাবি করেন, ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের প্রধান সরকারি কৌঁসুলি থাকার সময় স্টারমার তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

ওই সময়ে মূলত এশীয় বংশোদ্ভুত তরুণীদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালানো একটি অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে স্টারমারের যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন মাস্ক।

এছাড়াও স্টারমার তার লেবার পার্টির এক নারী সংসদ সদস্যের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যিনি মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।