ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ধারা নিয়ে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রস্তাবিত ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে সংবাদপত্র সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ। তাদের মতে, এই ধারা ব্যাংক খাতে সুশাসন, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নরের সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, বৈঠকে দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, বিপুল খেলাপি ঋণ, ব্যাংক সংস্কারের ধীরগতি, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়া এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি প্রস্তাবিত আইনের ১৮(ক) ধারা নিয়েও মতবিনিময় হয়।

নূরুল কবীর বলেন, ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো ব্যাংক সংকটে পড়লে যেন সাধারণ আমানতকারীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, গভর্নর বৈঠকে ব্যাংক খাত সংস্কারে বাংলাদেশ ব্যাংকের চলমান উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন এবং আর্থিক খাতে আস্থা ফেরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

আলোচনায় সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের ধীরগতি, কর্মসংস্থান পরিস্থিতি এবং আসন্ন বাজেটের দিকগুলোও উঠে আসে।

বৈঠক শেষে সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্যাংক খাতে আস্থা পুনরুদ্ধার এখন সময়ের বড় দাবি। বিশেষ করে আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মোহাম্মদ আলী, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, ডেইলি সান সম্পাদক মো. রেজাউল করিম (লোটাস), সংবাদ সম্পাদক আলতামাশ কবির, আগামীর সময় সম্পাদক মোস্তফা মামুন এবং করতোয়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক। প্রসঙ্গত, ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮(ক) ধারা হলো ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬’-এর একটি অত্যন্ত বিতর্কিত বিধান, যার মাধ্যমে একীভূত হওয়া বা রেজুলেশন প্রক্রিয়ায় যাওয়া দুর্বল ব্যাংকের সাবেক শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালকদের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে আবারও ব্যাংকের মালিকানায় ফিরে আসার আইনি সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে করে ব্যাংক খাত লুটের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের আবারও মালিকানায় নিয়ে আসার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।