প্রবাসী কার্ড চালু হবে, রেমিট্যান্সে ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা অব্যাহত

প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বাসস

প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ ও সেবা সহজীকরণে নতুন ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ উৎসাহিত করতে ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে এসব ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বক্তব্যে তিনি বলেন, শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা জোরদারে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিক ও কর্মজীবীদের প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করা হবে। নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে নিরাপদ আবাসন ও যাতায়াত ব্যবস্থার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নারীদের অংশগ্রহণ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিততে সম্পূর্ণভাবে নারীদের পরিচালনা ও তাদের ব্যবস্থাপনায় ‘পিঙ্ক বাস সার্ভিস’ চালু করা হবে। অর্থমন্ত্রী আরও জানান, শিশুশ্রম বন্ধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২৬-২০৩০ এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশি জনশক্তির সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিতে বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রবর্তন করা হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ সেবা, বীমা, ব্যাংকিং সুবিধা এবং জরুরি সহায়তা একসঙ্গে দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণে রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া ও নর্থ মেসিডোনিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া চলছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরের মাসে অর্থাৎ গত মার্চে প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স ৩.৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছায়, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ উৎসাহিত করতে ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে অকুপেশনভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিদেশে চাহিদাসম্পন্ন খাতে বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম উন্নয়ন, সার্টিফিকেশন, অ্যাক্রেডিটেশন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, অর্থ বিভাগের অধীনে ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম (এসআইসিআইপি)’ এর আওতায় প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার ব্যক্তিকে বাজার-চাহিদাভিত্তিক মাঝারি থেকে উচ্চতর দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে কমপক্ষে ৬৫ শতাংশের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।