নৌ-পরিবহন খাতের আধুনিকায়ন

মাতারবাড়ী ও বে-টার্মিনাল নির্মাণে জোর

প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বাসস

ব্যয়-সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও দক্ষ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নৌ-পরিবহন খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দর আধুনিকায়ন এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা পেশ করেছে সরকার। গতকাল জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশকালে নৌ-পরিবহন খাতের এই অগ্রগতির চিত্র ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাজেট বক্তৃতায় নৌ-পরিবহন খাতের টেকসই উন্নয়নে অবকাঠামো এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথের উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এছাড়া নৌপথগুলো সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে নিয়মিত ড্রেজিং ও খনন কার্যক্রম জোরালোভাবে পরিচালনা করার প্রস্তাব করা হয়। একই সঙ্গে ড্রেজিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বন্দরগুলোর কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে একটি অন্যতম মাইলফলক হিসেবে ‘মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর’ বাস্তবায়নের কাজ বর্তমানে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এই বন্দরটি পুরোপুরি চালু হলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ট্রান্সশিপমেন্ট সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

বাজেটে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন, জেটি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামের ওপর থেকে চাপ কমাতে এবং সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রাম বে-টার্মিনাল, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল ও লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের কাজ চলছে। সেসব কাজ বেগবান করার প্রস্তাব দেওয়া হয় বাজেটে।

পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষের নৌ-যোগাযোগ সহজ ও আধুনিক করতে নৌবন্দর ও লঞ্চঘাটগুলোর আধুনিকায়নের কাজ অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হয়। সরকারের এসব সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি সঞ্চার হবে এবং পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে বাজেট বক্তৃতায় আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী।