নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে শুল্ক-কর ছাড় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ

জানাল অ্যাকশনএইড

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনে সরকারের ঐতিহাসিক ও সংস্কারমুখী পদক্ষেপকে অভিনন্দন জানিয়েছে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ এবং জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ।

এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ??‘এই খাতের অপরিকল্পিত নীতি, মেগা প্রকল্পের একতরফা ও বিতর্কিত চুক্তি এবং এলএনজি ও জ্বালানি তেলের ওপর চরম আমদানি-নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে এই বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌর উপকরণের শুল্ক-কর অব্যাহতি এবং ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) শিল্পকে যে নজিরবিহীন ছাড় দেওয়া হয়েছে, তা দেশের জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন বা ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমরা মনে করি।’

এতে আরও বলা হয়, ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সরকার বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্যে দশটি অগ্রাধিকার খাতের তালিকায় জ্বালানি খাতকে রাখা হয়েছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়নের এই জাতীয় অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে প্রদত্ত নজিরবিহীন শুল্ক-কর অব্যাহতি বাংলাদেশের ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন এবং ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই বাজেট একটি শক্তিশালী ও যুগান্তকারী ভিত্তি স্থাপন করলো। বাজেট বক্তৃতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে এ খাতে ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বিগত অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

সংগঠনগুলো আরও উল্লেখ করে, সৌরবিদ্যুৎ খাতের প্রসারে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ আমদানিতে প্রযোজ্য আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং আগাম কর শূন্য শতাংশ করে একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি এবং তা ৩০ জুন ২০৩১ পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদে বলবৎ রাখার প্রস্তাব করায় আমরা সরকারকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে দেশীয় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের বিকাশে মাউন্টিং স্ট্রাকচার, লিথিয়াম সেল, ব্যাটারি প্যাক ও বিইএসএসের রেয়াতি সুবিধা ৩০ জুন ২০২৮-এর পর প্রত্যাহারের নীতি দেশীয় উৎপাদনকারীদের উৎসাহিত করবে।

তারা জানায়, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে আগামী ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ খাতে শূন্য শতাংশ করহার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পাশাপাশি, গ্রাহকদের সৌরবিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিপরীতে ৫ শতাংশ কর রেয়াত সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত তৃণমূল পর্যায়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে এবং জনগণ-কেন্দ্রিক জ্বালানি খাত গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।

দেশে লিথিয়ামণ্ডআয়ন, সোডিয়ামণ্ডআয়ন ব্যাটারি এবং ব্যাটারি প্যাক উৎপাদনকারী শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে আগামী ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত শুল্ক ও কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ সুবিধা প্রদানের নতুন প্রজ্ঞাপন জারির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তারা উল্লেখ করেছে, দেশে পরিবেশবান্ধব চার চাকা ও তিন চাকার ইভি উৎপাদনে স্থানীয় পর্যায়ে উচ্চ ও মধ্যম মূল্য সংযোজনের ওপর ভিত্তি করে যথাক্রমে ৩ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ব্যতিরেকে অন্য সব শুল্ক-কর মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ই-বাস ও ট্রাক উৎপাদনের কাঁচামালে ৫ শতাংশ ভ্যাটের অতিরিক্ত অন্য সব শুল্ক-কর সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থানীয় শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করবে। এই সুবিধা ৩০ জুন ২০৩১ পর্যন্ত বহাল রাখার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ।

তারা বলছে, ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত মূল্যের ইভি আমদানিতে মোট করভার ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৪ শতাংশ এবং ইভি চার্জার ও চার্জিং স্টেশন আমদানিতে মোট করহার ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে সম্পূর্ণ কমিয়ে শূন্য করার সিদ্ধান্ত দেশে পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। ইভি গাড়ির বিআরটিএ রেজিস্ট্রেশন ও নবায়নের অগ্রিম আয়করও ২ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ক্যাটাগরিভেদে ২৫ হাজার থেকে এক লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া, পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ডিজেল, অকটেন বা পেট্রোল চালিত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে ১২০০ থেকে ১৬০০ সিসির ইন্টারনাল কম্বাশন (আইসি) ইঞ্জিনের গাড়ির সামগ্রিক করহার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ এবং জেটনেটবিডি সাধুবাদ জানিয়েছে।

প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে ‘লিস্ট কস্ট জেনারেশন’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং ক্যাপাসিটি চার্জ পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এলএনজি ও জ্বালানি তেলের মূল্যস্ফীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক সংকট থেকে দেশের অর্থনীতি ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে সৌরবিদ্যুৎ ও ইভি রূপান্তরকে সর্বোচ্চ শুল্ক-কর ছাড়ের মাধ্যমে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। টেকসই, ন্যায়সংগত এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে এই দূরদর্শী বাজেট নীতিমালার জন্য আমরা সরকার, অর্থ মন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।