নারী ও শিশু অধিকার সুরক্ষায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি : জাহিদ

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

নারী ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় অনেক ভালো আইন থাকলেও সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এখনও নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। সরকার মাদক ও সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করলেও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা এখনও দেশের জন্য একটি বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আনোয়ারা বেগমণ্ডমুনিরা খান মিলনায়তনে ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, আইন, নীতিমালা এবং নানা ধরনের অ্যাডভোকেসি কর্মসূচি থাকার পরও মামলা দায়ের, তদন্ত এবং ডাক্তারি পরীক্ষায় বিলম্ব, অপর্যাপ্ত প্রমাণ এবং সাক্ষীর অভাবে লিঙ্গভিত্তিক যৌন সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। প্রচলিত আইন কাঠামোর সীমাবদ্ধতা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, ক্রমবর্ধমান সামাজিক অস্থিতিশীলতা, সামাজিক অন্যায়-অবিচার, সংঘবদ্ধ সহিংসতার অপসংস্কৃতির ফলে সামগ্রিকভাবে মানবাধিকার এবং মানবিক মর্যাদার ক্রমঅবনতি ঘটছে। সামগ্রিকভাবে সমাজে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিদ্যমান আইনের ব্যাপক প্রচার ও যথাযথ বাস্তবায়ন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসময় তিনি নারী ও শিশু অধিকার সুরক্ষায় সরকার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং জনগণকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার ঘটনার অবসানে রাষ্ট্রের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এবং তরুণ প্রজন্মের সমন্বিত কর্ম উদ্যোগে মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ বলেন, সংবিধানে নারীদের সমান অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হলেও কিছু বিধান বাস্তবে সেই অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করে।

তিনি নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো অপরাধ মোকাবিলায় বিদ্যমান আইনগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদাকে চৌধুরী বলেন, মানবিক শিক্ষা পরিবার থেকে শুরু হয় এজন্য পরিবার থেকে নৈতিকতা শিক্ষা দিতে হবে।

তিনি সাইবার বুলিং প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, কনটেন্ট নির্মাতা ও ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অধিকতর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় নেতা ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনসচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, রামিসা হত্যার মতো ঘটনাগুলো সমাজের অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলোকে উন্মোচিত করেছে।

তিনি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং সরকার ও সমাজের মধ্যে আরও শক্তিশালী সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) লিজা বেগম সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান, কার্যকর আইন প্রয়োগ, মামলার সঠিক তদন্ত এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক পুলিশিংয়ের ওপর জোর দেন।

তিনি প্রতি জেলায় ভুক্তভোগী সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন এবং সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন মজুমদার বলেন, একটি সুস্থ সমাজে কোনো ধরনের সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইতিবাচক ব্যবহারের আহ্বান জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, শুধু শাস্তি প্রদানই যথেষ্ট নয় বরং অপরাধীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও প্রয়োজন।

তিনি সহিংসতার পেছনের সামাজিক ও পারিবারিক কারণগুলো মোকাবিলা এবং ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।