নারী এমপিদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য ঘিরে সংসদে উত্তাপ
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিরোধী দলের নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের স্ত্রীকে নিয়ে বিএনপির সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর মন্তব্য ঘিরে সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এ নিয়ে বিরোধীদলীয় সদস্যদের হট্টগোলের পর বৈঠকের সভাপতি কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হকের বক্তব্যের একটি অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেন। গতকাল রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় মনিরুলের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে হট্টগোল ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য না করার অনুরোধ জানান তিনি।
এদিন বাজেট আলোচনার একপর্যায়ে জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে মনিরুল হক বলেন, ‘ওনাদের সঙ্গে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক। ১৯৬৮ সালে গোলাম আযমের ডাকে ঢাকায় আন্দোলন করেছি। ‘হরতাল কমিটির আহ্বায়ক ছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। গোলাম আযম সাহেব আমার দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থী প্রত্যাহার করেছিলেন। এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’ তিনি বলেন, “আমি স্বীকার করি, জামায়াত ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন। লেখাপড়া করে রাজনীতি করেন। কিন্তু আপনারা যা পড়েন, তা ইতিহাসের সত্য-এই কথাটা ঠিক নয়। আর আপনাদের চেনা আরও কঠিন।’
এরপর মনিরুল হক ২০০১ সালের একটি ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, খন্দকার মোশাররফ হোসেন মন্ত্রী হওয়ার পর সংসদ সদস্যদের স্ত্রীসহ দাওয়াত দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে যাননি, তবে জামায়াত নেতা তাহের গিয়েছিলেন। মনিরুল বলেন, ‘ঢোকার পর দেখি একটা কিছু হাঁটতেছে। আমি বলি, তাহের ভাই ভাবি কই? উনি বলেন, এই যে। তখন বলি, আপনি যে বদলায়ে আনেন নাই এটা কেমনে বুঝমু।’
পরে বিরোধী দলের নারী সংসদ সদস্যদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমাদের হাউজে বোনেরা এমপি হয়ে এসেছেন। সবাই মেধাবী। দুইজনের বক্তৃতা শুনেছি, আগামীতে কিছু করতে পারবে, ভবিষ্যৎ আছে, লেখাপড়া জানা। কিন্তু বুঝলাম না তো কারা আপনারা? আপনারা এদিকে দেখতে পারেন, আমরা এদিকে দেখলে কী আছে বুঝব না, এটা ঠিক না।’ তার এই বক্তব্যের পরই বিরোধী দলের সদস্যরা আসন থেকে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্য, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলা উচিত না।’ তবে বিরোধী দলের সদস্যরা প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন। কয়েকজন সদস্য উচ্চস্বরে আপত্তি জানাতে থাকেন।
