আদাবরে বিএনপি নেতাকে হত্যার ঘটনায় আটক আরও ৪
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর আদাবরে বিএনপি নেতা মো. আবুল বাশার বাদশাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও চারজনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট সাতজন আটক হয়েছেন। আটকরা হলেন- রিপন, নিরব, মজনু মিয়া ও মো. মিজানুর রহমান। গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টায় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানাধীন সাহেবনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে ডিবির তেজগাঁও বিভাগের একটি টিম। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর আদাবর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়। গতকাল শুক্রবার বিকালে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, গত ১ জুলাই রাত সাড়ে ৮টায় আদাবর থানাধীন নবোদয় হাউজিংয়ের চার রাস্তার মোড় এলাকায় পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো.আবুল বাশার (৪৫) ও সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৫) গুরুতর আহত হন। আহতদের প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে আবুল বাশার মারা যান। আহত সাদ্দাম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গত ২৯ জুন রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে ব্রাজিল-জাপান ম্যাচ দেখা এবং বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের ধারাবাহিকতায়, গত বুধবার রাতে নবোদয় কাঁচাবাজার সংলগ্ন ডি-ব্লকের ১ নম্বর সড়কে অনুষ্ঠিত একটি সালিশ বৈঠকের শেষ পর্যায়ে পুনরায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আবুল বাশার ও সাদ্দাম ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন।
এক প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান বলেন, আটকদের মধ্যে রিপন সরাসরি আবুল বাশারকে ছুরিকাঘাত করেছে। তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। তারা পালিয়ে তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে চলে যায়। এই ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। এর আগে, এই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে আদবরের নবোদয় হাউজিং এলাকা থেকে তিনজনকে আটক করে আদাবর থানা পুলিশ। তারা হলেন- শোয়েব, আরমান ও নয়ন।
