বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রু। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতার কার্যালয়ে তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই রাষ্ট্রদূতের প্রথম সাক্ষাৎ। সৌজন্য সাক্ষাৎটি অত্যন্ত আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় বাজেট পাস, বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রত্যাশিত সংস্কার, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ নিয়েও উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন। বৈঠকে বাজেট বাস্তবায়ন এবং এর বিভিন্ন আঙ্গিক নিয়ে আলোচনা হয়। রোহিঙ্গা ইস্যু এবং এর সম্ভাব্য সমাধান ও চ্যালেঞ্জগুলো বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। বিরোধীদলীয় নেতা বাংলাদেশের সঙ্গে স্পেনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় স্পেনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। স্বাধীন ফিলিস্তিন ইস্যুতে সমর্থন অব্যাহত রাখার জন্যও তিনি স্পেন সরকারের প্রশংসা করেন। রাষ্ট্রদূতও বাংলাদেশ ও স্পেনের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে প্রকৃত অংশীদারিত্বে রূপ দেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের : বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে প্রকৃত অংশীদারিত্বে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ককে সাধারণ বন্ধুত্ব থেকে বাণিজ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সমর্থনের ভিত্তিতে একটি প্রকৃত অংশীদারিত্বে রূপান্তর করার আমি দৃঢ় আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান। গত শনিবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ‘ককাস অব আমেরিকা’ এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিশেষ অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং দেশীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি পুনরায় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছি।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে (যার মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অন্তর্ভুক্ত) আমি স্বাগত জানাচ্ছি এবং সেখানে স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি ককাস অব আমেরিকাকে তাদের কাজের জন্য অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সংসদীয় কূটনীতির মূল দায়িত্ব হলো শরণার্থী পরিবার, বন্যাদুর্গত এলাকা এবং কণ্ঠহীন মেহনতি মানুষের মতো সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও জনগণকে তাদের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীতে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার আশা ব্যক্ত করছি। ড. মো. ওসমান ফারুক এমপির সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই বিশেষ বার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
‘ককাস অব আমেরিকা’-এর কার্যনির্বাহী কমিটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুজন প্রতিনিধি রয়েছেন। তারা হলেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান), এমপি এবং মিস মারদিয়া মমতাজ, এমপি। এই ককাসে তাদের উপস্থিতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মিলেমিশে গঠনমূলক সংসদীয় কূটনীতি পরিচালনা এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার প্রতি জামায়াতে ইসলামীর ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতিরই বহিঃপ্রকাশ।
জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিতব্য পঞ্চম ইউনাইটেড নেশনস চিফস অব পুলিশ সামিট (ইউএন-কপস-৫)-এ অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলন আগামী ৭ ও ৮ জুলাই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। প্রতিনিধি দলে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরও রয়েছেন।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘জাতিসংঘ পুলিশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা’, ‘জাতিসংঘ পুলিশিংয়ে উদ্ভাবন ও নতুন প্রযুক্তি’ এবং ‘আন্তঃদেশীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি’—এই তিনটি প্লেনারি অধিবেশনে অংশ নেবেন। এ ছাড়া সম্মেলনের সাইডলাইন উচ্চপর্যায়ের নৈশভোজেও তার অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। সফরকালে তিনি জাতিসংঘের অপারেশনাল সাপোর্টবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে, পিস অপারেশনসবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া এবং পলিটিক্যাল অ্যান্ড পিসবিল্ডিং অ্যাফেয়ার্সবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রোজমেরি এ. ডিকার্লোর সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
