স্বাস্থ্য খাতের ঘাটতি চিহ্নিত করে তা সমাধানে কাজ করছে সরকার
বললেন ডা. জুবাইদা রহমান
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
বাসস
প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. জুবাইদা রহমান গতকাল বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে তরুণদের অধিক সম্পৃক্ততার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
গতকাল রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘দ্য পাথ টু বিকামিং অ্যা হেলথ এন্টারপ্রেনার ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিদ্যমান ও উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমরা তরুণদের প্রশিক্ষণ ও মেন্টরশিপের সুযোগ দিতে পারি, যাতে তারা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে। এজন্য তাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, গবেষক, সামাজিক ও বেসরকারি খাতের উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে, বলেন তিনি।
তিনি উদ্ভাবন বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক কাজের মাধ্যমে শিখবে এবং শিক্ষকরা বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করবেন।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে হবে এবং তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়া শুধু ব্যবসা শুরু করা বা স্বাস্থ্যসেবাকে বাণিজ্যিকীকরণের বিষয় নয়; বরং স্বাস্থ্য খাতের ঘাটতি চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান উদ্ভাবনের মাধ্যমে সৃজনশীলতা, প্রমাণভিত্তিক জ্ঞান এবং শৃঙ্খলার প্রয়োগ ঘটিয়ে মানুষের বাস্তব জীবনের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
স্বাস্থ্যসেবার আর্থিক ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের মানুষ স্বাস্থ্যসেবার মোট ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ নিজস্ব অর্থ থেকে বহন করে। ফলে, বাংলাদেশে অসুস্থতা দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা এবং স্বাস্থ্য খাতে জবাবদিহিতার অভাবে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বেড়েছে। আমরা এখন সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছি এবং প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া আমাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
দেশের স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রসঙ্গ তুলে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি, বয়স্ক জনগোষ্ঠী, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং দ্রুত নগরায়ন। তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা খাতের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এর জন্য নতুন চিন্তাভাবনা এবং আরও শক্তিশালী অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।
