স্থানীয় সরকার নির্বাচন
বাতিল হচ্ছে পোষ্টার ইভিএম, বাড়ছে জামানত
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের ৪ হাজার ৫৬৬টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট অনুষ্ঠানের পথনকশা এখন কার্যত চূড়ান্তের দিকে। আগস্ট মাসের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করার রোডম্যাপ তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
উপদেষ্টা জানান, অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে এবং আগামী বছরের অক্টোবরের মধ্যে সব স্তরের নির্বাচন শেষ হবে। অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে শুরু করে ধাপে ধাপে উপজেলা, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন এবং সবশেষে জেলা পরিষদ এই ক্রমেই এগিয়ে যাবে নির্বাচনি প্রক্রিয়া।
উল্লেখযোগ্য যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়রেখা নিয়ে এই উপদেষ্টার বক্তব্য প্রতি কয়েক সপ্তাহে একটু একটু করে সুনির্দিষ্ট হয়েছে। গত ৫ মে তিনি জানিয়েছিলেন বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। সেই ‘বছরের শেষ’ এখন ‘অক্টোবর’ হয়ে নির্দিষ্ট হয়েছে। ২৩ জুন তিনি বলেছিলেন সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে শুরু হতে পারে। আজকের বক্তব্যে সেই দুটি সম্ভাবনার মধ্যে অক্টোবরকেই চূড়ান্ত করা হলো।
ইউনিয়ন পরিষদ দিয়েই কেন শুরু করতে হবে এর পেছনে রয়েছে একটি কঠোর আইনি কারণ। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছিলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার নির্বাচন না হলে আইনত উপজেলা পরিষদের নির্বাচন করা যাবে না। কারণ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা উপজেলা পরিষদের পদাধিকারবলে সদস্য। একই কারণে জেলা পরিষদের নির্বাচন হবে সবার শেষে।
এই আইনি শৃঙ্খলাটি বাস্তবে অর্থ হলো প্রতিটি স্তরের নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরেই পরবর্তী স্তরের ভোট দেওয়া সম্ভব। দেশে ১ হাজার ৪০০-র বেশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের জন্য আইনত উপযুক্ত হয়ে আছে, মালামালও কেনা হয়েছে এবং বাজেটও ধরা আছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার বন্ধ করা হচ্ছে, বাতিল হচ্ছে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিল ও ইভিএম ব্যবহার। সম্পূর্ণ নির্দলীয় এই নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হচ্ছে এবং পোস্টাল ব্যালটেও ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। উপজেলা পরিষদ ছাড়া অন্যান্য সব স্তরের নির্বাচনে জামানতের পরিমাণও বাড়ানো হচ্ছে, তবে সুনির্দিষ্ট অঙ্কটি এখনো ঠিক হয়নি।
গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয় নতুন আচরণবিধিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে ফেরারি আসামি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত কোনো ব্যক্তি এই নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
কার্যক্রমণ্ডনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন উপদেষ্টা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, একজন ব্যক্তি যদি নির্বাচনের শর্তাবলি পূরণ করেন, তিনি যদি আওয়ামী লীগের সদস্যও হন, যেহেতু নির্বাচন নির্দলীয়, তিনি অংশ নিতে পারবেন। তবে প্রচারে আওয়ামী লীগের পরিচয় বা দলের স্লোগান ব্যবহার করলে সমস্যা হবে।
তিনি আরও পরিষ্কার করেন, যে প্রার্থী অতীতে নির্দিষ্ট কোনো দলে থাকলেও জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত না থাকলে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা না থাকলে, ব্যক্তি হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো সংলাপ করার পরিকল্পনাও নেই কমিশনের। ইসি জানিয়েছে, আইন ও বিধিতে যেসব পরিবর্তন আনা হবে, তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, সবাই মতামত দিতে পারবেন।
