সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল যাচ্ছে কাঁচপুরে, নির্মাণের দায়িত্বে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে যাচ্ছে। অবকাঠামো নির্মাণের কাজটি করবে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেড। সরাসরি ক্রয়-পদ্ধতিতে এটি হবে অর্থাৎ কোনো দরপত্র ডাকা হবে না।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়।
রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক-ব্যবস্থার আধুনিকায়নে চারটি প্রধান আন্তনগর বাস টার্মিনাল দ্রুত শহরের বাইরে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১৫ জুন সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এমন নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
সায়েদাবাদণ্ডযাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনালের পাশাপাশি অন্য তিনটি হচ্ছে- ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল, গাবতলী বাস টার্মিনাল ও মহাখালী বাস টার্মিনাল। প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়, সায়েদাবাদের বাস টার্মিনালটি কাঁচপুর ব্রিজের কাছাকাছি, ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনালটি কেরানীগঞ্জে, মহাখালী বাস টার্মিনাল অস্থায়ীভাবে পূর্বাচলে ও পরে স্থায়ীভাবে টঙ্গীর কাছাকাছি এবং গাবতলী আন্তনগর বাস টার্মিনাল সাভারের হেমায়েতপুরে নিয়ে যাওয়া হবে।
কাঁচপুরের যেখানে বাস টার্মিনাল হবে, গত ২৪ জুন সেই স্থান পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ। পরিদর্শনের সময় তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই এ টার্মিনালের সার্বিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, টার্মিনাল স্থানান্তরের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। নতুন বাস টার্মিনালের শেড, টিকিট কাউন্টার, টয়লেট এবং অফিস কক্ষসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণে এ অর্থ ব্যয় হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর স্থানীয় সরকার বিভাগ সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে কয়েক মাসের মধ্যে কাঁচপুরে প্রস্তাবিত টার্মিনাল করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও অন্যান্য কাজ শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছে। টার্মিনালের জন্য ৪ হাজার ১২ বর্গমিটার প্ল্যাটফর্ম ঢালাই ও টাইলস বসানো, ১৫ হাজার ৫৭৩ কেজি প্রোফাইল শিট দিয়ে শেড নির্মাণ, ১২০টি টিকিট কাউন্টার, ৩২টি টয়লেট, অফিসকক্ষ, পার্টিশন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণ করা হবে বলে জানা গেছে।
