নতুন বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হবে প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা

বললেন মাহদী আমিন

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

তৃণমূলের ক্ষমতায়ন ও প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়নের মাধ্যমেই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে, যেখানে শিক্ষার্থীরাই হবে আগামী দিনের মূল কারিগর।

গতকাল বুধবার রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন, তার অন্যতম ভিত্তি হলো তৃণমূলের ক্ষমতায়ন।

দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের একজন শিক্ষার্থীর লক্ষ্য ও এগিয়ে যাওয়ার অভিযাত্রাকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সেই দর্শনেরই বাস্তব প্রতিফলন ঘটছে এই আয়োজনে।

এবারের আয়োজনের বিশেষত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, দেশের ৬৪টি জেলার সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই উৎসবে অংশ নিয়েছে। যার মধ্যে বন্যাকবলিত ৭টি জেলার প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির খুদে শিক্ষার্থীরাও রয়েছে।

তারা প্রবল বন্যা ও নানা প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে নিজ নিজ জেলার স্বাতন্ত্র্য, সাফল্য ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে আজ এখানে উপস্থিত হয়েছে। প্রতিকূলতাকে জয় করে এগিয়ে যাওয়ার এই অদম্য মানসিকতাই প্রমাণ করে যে, আগামীর বাংলাদেশের কাণ্ডারী এরাই।

শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান অনন্য। তার হাত ধরেই দেশজুড়ে ‘গণশিক্ষা’র আলো ছড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়’ পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।

আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বারবার তৃণমূলে ছুটে গিয়ে ভালো শিক্ষক, ভালো শিক্ষার্থী এবং যুগোপযোগী কারিকুলাম নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। বর্তমান সরকার সেই ধারা বজায় রেখে শিক্ষা ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

শিক্ষার পাশাপাশি সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করে মাহ্দী আমিন জানান, শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবেশ ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আজ দেশের প্রায় ৬৫ হাজার স্কুলে একযোগে ২ লাখ বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীরা নিজেরাই পরিচর্যা করবে।

এছাড়া, অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রাথমিক স্তরের ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি ফুটবল প্রতিযোগিতার সফল আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। আগামীতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতায় ‘প্রাইমণ্ডমিনিস্টার্স ফুটবল গোল্ড কাপ’ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে বছরজুড়ে দেশব্যাপী মেধা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু রাখার নতুন রূপকল্পও ঘোষণা করেন তিনি।

খুদে শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর আবেগ ও উচ্ছ্বাসের কথা উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, এটিই প্রমাণ করে একজন জনগণের নেতা রাষ্ট্র পরিচালনায় এলে কীভাবে দেশের ভাগ্য বদলে যায়। তিনি দেশের বিপর্যস্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।