রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন

আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সহযোগিতার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, ‘প্রায় এক দশক ধরে মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার মানবিক দায়িত্ব বাংলাদেশ পালন করে আসছে। এই সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে বাংলাদেশ মাদক চোরাচালান, মানব পাচার এবং অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রবাহের মতো বিভিন্ন ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধের শিকার হচ্ছে।’ ৩৩তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে যৌথভাবে সহযোগিতা করার জন্য অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

গতকাল বৃহস্পতিবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বর্তমানে অভূতপূর্ব ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। নতুনভাবে উদ্ভূত বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো মোকাবেলার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সংলাপ ও কূটনীতিই সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।’ তিনি সামুদ্রিক বিরোধ বা বিরোধপূর্ণ জলসীমা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিরসনে সব দেশকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, ‘ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অন দ্য ল অব দ্য সি’সহ আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখা এবং শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য সমাধানের আহ্বান জানান।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, ‘প্রায় এক দশক ধরে মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার মানবিক দায়িত্ব বাংলাদেশ পালন করে আসছে। এই সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে বাংলাদেশ মাদক চোরাচালান, মানব পাচার এবং অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রবাহের মতো বিভিন্ন ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধের শিকার হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা পরিস্থিতিগত কারণে রাষ্ট্রহীন নয়- পরিকল্পিতভাবেই তাদের রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা, যার সমাধানও রাজনৈতিকভাবেই হতে হবে।’