প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিফিনের রুটিতে ব্লেড, তদন্তে মিলল ভিন্ন তথ্য

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বরিশাল ব্যুরো

দেশব্যাপী আলোচিত বরিশালের গৌরনদী উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক ছাত্রীর মিড-ডে মিলের রুটিতে ব্লেড পাওয়ার ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি এতে সরবরাহকারী কোম্পানির কোনো গাফিলতি কিংবা রুটির ভেতরে ব্লেড ঢুকিয়ে দেওয়ার সত্যতা পায়নি। মূলত ওই স্কুলের এক শিক্ষার্থী নিজেই রুটির ভেতরে ব্লেডটি ঢুকিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই না করে ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক সহকারী শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া শিক্ষিকার নাম শারমিন জাহান। তিনি গৌরনদী পৌর এলাকার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।

গতকাল বুধবার দুপুরে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহিম জানান, সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি নির্দেশে তদন্ত দল রুটি সরবরাহকারী কারখানাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে এবং উৎপাদনের প্রতিটি ধাপ পর্যালোচনা করে। তারা হাতে-কলমে মিক্সার থেকে শুরু করে সব ধাপে পরীক্ষা করে দেখেছে যে, কারখানা থেকে কোনোভাবেই একটি আস্ত ব্লেড রুটির ভেতরে থাকা সম্ভব নয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও জানান, পরবর্তীতে ঘটনাস্থল হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে কেউ চক্রান্ত করেছে কি না, তা যাচাইয়ে কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এমনকি সংশ্লিষ্ট ছাত্রীর বাড়িতে কোন প্রতিষ্ঠানের ব্লেড ব্যবহার করা হয়, তা-ও খুঁজে বের করে উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওই ছাত্রী স্বীকার করে যে, ব্লেডটি তার ব্যাগে ছিল। স্কুলে ব্লেড আনা নিষেধ থাকায় শিক্ষিকা দেখলে বকা দিতে পারেন- এ ভয়ে সে ব্লেডটি রুটির ভেতরে লুকিয়ে ফেলে। পরবর্তীতে রুটির প্যাকেট খোলার সময় ‘জান্নাত’ নামের অপর এক ছাত্রী ব্লেডটি দেখে ফেলে। বিষয়টি জান্নাত শিক্ষিকাকে বলে দিতে পারে ভেবে ওই ছাত্রী নিজেই আগেভাগে শিক্ষিকার কাছে গিয়ে রুটিতে ব্লেড পাওয়ার কথা জানায়।

তখন সহকারী শিক্ষিকা শারমিন জাহান বিষয়টি যাচাই-বাছাই না করেই ব্লেডের ছবি তুলে শিক্ষকদের মেসেঞ্জার গ্রুপ ও সদর ক্লাস্টার গ্রুপে পাঠিয়ে দেন। ফলে যাচাই ছাড়াই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার উপক্রম হয়।

ইউএনও উল্লেখ করেন, তিন দিনের মধ্যেই ঘটনার সঠিক বিশ্লেষণ করে শতভাগ নির্ভুল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।