মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে করণীয় তুলে ধরলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

নিত্যপণ্যসহ খাদ্যপণ্যের বাজারে গত কয়েক বছর ধরে যে চড়া মূল্যস্ফীতি রয়েছে, তার লাগাম টেনে ধরতে ‘আনঅ্যাকাউন্টেড এক্সপেন্স’ কমানোর কথা বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। কৃষকের কাছ থেকে ভোক্তা পর্যন্ত ভোগ্যপণ্য আসতে যে চাঁদাবাজি হয়, তার দিকে ইঙ্গিত করে এ কথা বলেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যশৃঙ্খল: বাজারব্যবস্থা, মুনাফার মার্জিন ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা’ শীর্ষক সংলাপে দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চাঁদা দেওয়ার প্রবণতার কথা উঠে আসে। পরে বাণিজ্যমন্ত্রী বক্তব্য দিতে খাদ্যপণ্যের চড়া মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তো এই সমস্যা থেকে বের হওয়ার জন্য একটা হলো লজিস্টিক কস্ট কমাতে হবে, একটা হলো ইনপুট কস্ট কমাতে হবে। ‘তৃতীয় হল, কেউ একজন বলেছেন চাঁদাবাজি—আমি এরকম ‘র’ বা শক্ত শব্দে না গিয়ে এটার একটু রিফাইনড ওয়ার্ড দেই। আনঅ্যাকাউন্টেড ফর এক্সপেন্স কমানো। এটা কমাতে হবে।’ মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের এখানে মূল্যস্ফীতি ক্রমাগত চড়া থাকার একটা বড় কারণ হলো- আমাদের লজিস্টিক কস্টটা হাই।

‘আপনি সারা পৃথিবীর যদি গড় লজিস্টিকস কস্টের স্ট্যান্ডার্ড দেখেন, জিডিপির ১০ শতাংশ। গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড ১০ শতাংশ। আমাদের এখানে ১৬ শতাংশ।’ তার ভাষ্য, ‘আমাদের এখানে তো সমস্যা অনেক। মার্কেট অ্যাসিমেট্রিজ আছে। এখানে একটা তথ্য সরবরাহের কোনো ভালো কাঠামো নাই। এই মেকানিজমটা নাই।’

উদাহরণ টেনে বলেন, ‘আলু গত দুই বছর যাবত ১ কোটি টনের উপরে আমরা প্রডিউস করি, দুই বছর ধরে। দুই বছর আগেও কৃষক টাকা পায় নাই, গত বছরও পায় নাই- মানে চলতি বছরেও পায় নাই। ‘কিন্তু না পাওয়ার পরেও এবং এক-তৃতীয়াংশ আমাদের ভোগের বাইরে থাকার পরেও কেন আবার তৃতীয় বছরেও সমপরিমাণ আলু উৎপাদন করছে বা করতে যাচ্ছে কৃষকরা? তার মানে এখানে একটা মার্কেট অ্যাসিমেট্রিজ আছে। ‘তার কাছে প্রপার ইনফরমেশনটা পৌঁছাচ্ছে না। অথবা এই সহজ চাষটা বাদ দিয়ে এই জায়গায় অন্য কোনো উৎপাদনে সে যেতে পারে, সেটার প্রপার ইনপুটটা তার কাছে নাই। এখানে একটা গ্যাপ রয়েছে।’ কৃষিপণ্যের উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে ‘ট্রেসেবিলিটি’ (কোনো পণ্য কোথা থেকে এসেছে, বর্তমানে কোথায় আছে এবং কীভাবে স্থানান্তরিত হয়েছে) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি তুলে ধরে বলেন, ‘এর মাধ্যমে কোন পর্যায়ে অস্বাভাবিক ব্যয় বা মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।’ সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ এসোসিয়েট ফখরুদ্দিন আল কবির। তিনি বলেন, কাঁচামরিচের দাম কৃষক থেকে কয়েকবার হাতবদলে খুচরা বাজার পর্যন্ত দাম বাড়ে ১১৬ শতাংশ পর্যন্ত, যেখানে চালের দাম উৎপাদন পর্যায় থেকে খুচরা বাজারে পৌঁছাতে দাম বেড়ে যায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত।