প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ
পাঁচ বছরে ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ আনতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিল অ্যামচেম
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ আনতে সহায়তার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচ্যাম) নেতারা। অ্যামচেম নেতারা বলেন, বিগত বছরগুলোতে সংগঠনের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। আগামী ৫ বছরে আরও ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ আনতে সহায়ক ভূমিকা পালনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা। এ জন্য প্রয়োজনীয় সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও সরকারের অংশীদারত্ব প্রত্যাশা করেন অ্যামচেম নেতারা। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে এসব কথা বলেন অ্যামচেম নেতারা। অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল সংগঠনটির নির্বাহী কমিটির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। সংগঠনটির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক রূপান্তরের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার। নীতির স্পষ্টতা, ধারাবাহিকতা, দক্ষ প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন অ্যামচেম নেতারা। চলতি অর্থবছরের সংস্কার প্যাকেজের আওতায় বিনিয়োগ সহজতর করতে নেওয়া পদক্ষেপের স্বাগত জানান তারা।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রদান, সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা চালু, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন, কমপ্লায়েন্সের চাপ কমানো, মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার উন্নয়ন, কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করাসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ অ্যামচেম প্রতিনিধিদল স্বাগত জানায়।
এ পরিপ্রেক্ষিতে অগ্রাধিকার খাতগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্পষ্টতা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করায় ওপর গুরুত্ব দেন অ্যামচেম নেতারা। তারা মনে করে, এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তির কাঠামোকে কৌশলগত সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছে অ্যামচেম। সংগঠনটির মতে, এই কাঠামো দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে এবং বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে পারে। অ্যামচেম কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলায় গুরুত্ব দেয়। বিষয়টি শুধু বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে নয়। এর আওতায় প্রযুক্তি, এআই ও ডিজিটাল উদ্ভাবনের মতো খাতগুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্লাউড প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনবিজ্ঞান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা ও আর্থিক খাতের আধুনিকায়নও এর মধ্যে থাকবে।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল অ্যামচেম বাংলাদেশ ও বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠেয় ৩০তম ইউএস ট্রেড শোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে অ্যামচেমের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
অ্যামচেম প্রতিনিধিদলে ছিলেন সহসভাপতি ও মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলা উদ্দিন আহমদ, অ্যামচেমের কোষাধ্যক্ষ ও ফিলিপ মরিস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজা উর রহমান মাহমুদ; অ্যামচেমের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেডের এ দেশের প্রধান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া প্রমুখ।
