শতভাগ জিপিএ-৫
নাছিমা কাদির মোল্লা স্কুলের ব্যাখ্যা চায় বোর্ড
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
এবারের এসএসসি পরীক্ষায় নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসের ৩৮২ পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটি ‘নিয়মবহির্ভূত কোনো কৌশল’ নিয়েছিল কি না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রধান শিক্ষককে রোববার এ বিষয়ে ‘শোকজ নোটিস’ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে প্রতিষ্ঠানের ভর্তি শিক্ষার্থীর তথ্য, নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর তথ্য, এসএসসির নির্বাচনি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর তথ্য এবং এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করা শিক্ষার্থীদের তথ্যসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে সাত কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে প্রধান শিক্ষককে।
এর আগে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায়ও নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসের ৩২০ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল। ওই বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩১৭ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে তিনজন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
চলতি বছরের ফল নিয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক ইমন হোসেন বলেন, ‘আমাদের স্কুল থেকে ৪৮৩ জন টেস্ট পরীক্ষায় বসলেও, মূল পরীক্ষায় বসেছে ৩৮২ জন; সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে।’
বাকি ১০১ জন কেন এসএসসি পরীক্ষায় বসতে পারেননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই শিক্ষার্থীরা টেস্ট পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি তাই আমরা তাদের ফরম পূরণের সুযোগ দিতে পারিনি। ‘বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী তারা পরীক্ষায় বসার সুযোগ পায়নি দেখেই তাদের ফরম পূরণ করা হয়নি।’
স্কুলের একজন সাবেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এ স্কুলের টেস্ট পরীক্ষায় প্রশ্ন এমনভাবেই করা হয়, যাতে যেই পরীক্ষার্থী এ প্লাস পাবে, শুধু সেই পাস করতে পারে, বাকিরা ফেল করে।’ তবে তিনি বলেন, ‘দুর্বল শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করতে শিক্ষকরা যথেষ্ট চেষ্টা করেন সেটি বলতেই হবে। ক্লাসের পরে বাড়তি ক্লাস, হোম ভিজিট করাসহ যা যা করা যায়, শিক্ষকরা তাই করার চেষ্টা করেন।’
