বাবার সঙ্গে জাহাজে করে পাকিস্তানে
২৫ বছর পর স্বজনদের কাছে ফিরলেন ফরিদ
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
দশ বছর বয়সে দেশ ছেড়েছিলেন মোহাম্মদ ফরিদ, বাবার সঙ্গে প্রথমে যান পাকিস্তানে। সেখানে একটি ‘দুর্ঘটনায়’ তার দুই পা কাটা পড়ে। তবে সেখানেও থাকা হয়নি। দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে পাকিস্তান থেকে যেতে হয় তুরস্কে। এরপর দেশ ও পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, এভাবেই কাটে ২৫ বছর। অবশেষে আড়াই দশক পর ফরিদ দেশে ফিরেছেন মঙ্গলবার। তবে পরিবারের সদস্যরা কে কোথায় আছেন, সে তথ্য তার কাছে ছিল না। বহু চেষ্টার পর অবশেষে ফরিদ তার পরিবারের সন্ধান পেয়েছেন ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগিতায়। এখন ফরিদকে তার ঠিকানায় ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ চলছে।
কীভাবে খোঁজ মিলল ফরিদের পরিবারের : গত মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৫টার দিকে একটি ফ্লাইটে তুরস্ক থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ফরিদ। দেশে পৌঁছানোর পর বিপত্তি বাঁধে অন্যখানে। ঠিকমত বাংলা বলতে পারছিলেন না তিনি, পরিবার বা স্বজনদের কারও তথ্যও তার কাছে ছিল না। পরে বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সদস্যরা তাকে ব্র্যাকের আশকোনা মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে। ফরিদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে দিনভর চেষ্টা চালিয়ে মেলে তার পরিবারের খোঁজখবর।
ব্র্যাক বলছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংবাদমাধ্যম কর্মী ও স্থানীয়দেনর সহযোগিতায় দেশে ফেরার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা পালং ইউনিয়নের নাছিরপাড়ায় তার পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের এক কর্মকর্তা বলেন, ফরিদকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল তার পরিবার খঁজে বের করা। কারণ তার কাছে খুব সীমিত তথ্য ছিল। এরপর সোশাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়। কক্সবাজারে ব্র্যাকের সহকর্মীরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। বিভিন্ন এলাকায় পোস্টারও লাগানো হয়।
‘সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিকেলেই ফরিদের পরিবারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাই এবং পরে তার বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করি।
ফরিদ বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে, তার বয়স যখন আনুমানিক ১০ বছর, তখন তিনি তার বাবা মো. আয়ুব আলীর সঙ্গে জাহাজে করে পাকিস্তানে যান। সেখানে তিনি দুই পা হারান। প্রায় ১০ বছর থাকার পর দালালরা তাকে সড়কপথে তুরস্কে নিয়ে যায়।
ব্র্যাকের কক্সবাজার মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মীরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় মরিচ্যা পালং এলাকার নাছির পাড়ায় গিয়ে ফরিদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিবারের সদস্যরা ব্র্যাককে নিশ্চিত করেছে, ফরিদের বাবা মো. আয়ুব আলী বর্তমানে পাকিস্তানে রয়েছেন। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। ফরিদ তাদের বড় ছেলে। দালালের মাধ্যমে তুরস্কে যাওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে তার আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
ফরিদের ভাই ছৈয়দ আলমকে দ্রুত ঢাকায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরপর ফরিদকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ব্র্যাকের ওই কর্মকর্তা।
