সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি লক্ষ্যে নৌযান শুমারি শুরু কাল

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের নৌপরিবহন খাতকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও তথ্যভিত্তিক করতে প্রথমবারের মতো আজ থেকে শুরু হচ্ছে ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’। ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ১০ দিনব্যাপী দেশ জুড়ে এ শুমারির তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চলবে। এর মাধ্যমে দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী সব ইঞ্জিনচালিত নৌযানের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করে একটি ‘সমন্বিত ডাটাবেজ’ তৈরি করা হবে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘নৌযানের ডাটাবেইজ তৈরি ও নৌযান ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ শুমারি পরিচালনা করা হচ্ছে। নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যৌথভাবে দেশব্যাপী এ শুমারি পরিচালনা করবে।

নৌপরিবহন খাতের পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও নীতিনির্ধারণে নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযানের সংখ্যা, ধরন, মালিকানা, নিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হবে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ।

নৌপরিবহন অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের নৌযান খাত সম্পর্কে একটি নির্ভরযোগ্য, হালনাগাদ ও পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যানভিত্তিক চিত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে এ শুমারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জলসীমায় নানা ধরনের ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচল করলেও এসব নৌযানের সংখ্যা, ধরন, মালিকানা ও নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডারে সংরক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। নৌযান শুমারির মাধ্যমে সেই তথ্যভাণ্ডার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুমারিতে দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। নৌযানের সংখ্যা ও ধরন নির্ধারণের পাশাপাশি মালিকানা এবং নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্যও নেওয়া হবে। এর ফলে দেশে কী ধরনের ও কতসংখ্যক ইঞ্জিনচালিত নৌযান রয়েছে, তার একটি সামগ্রিক ও হালনাগাদ চিত্র পাওয়া যাবে।

সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি ডাটাবেজ দেশের নৌপরিবহন খাতের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় ব্যবহার করা হবে। নৌযানের নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও কার্যকর করার পাশাপাশি নৌনিরাপত্তা জোরদার, নৌপথ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পাওয়া সহজ হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ শুমারি শুধু নৌযানের সংখ্যা নির্ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। নৌপরিবহন খাতের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে একটি তথ্যভিত্তিক ধারণা তৈরির পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ খাতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ করবে। ফলে নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনাও আরও বাস্তবভিত্তিক করার সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক নিয়োজিত শুমারি কর্মীরা এই কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংশ্লিষ্ট নৌযান মালিক, চালক, শ্রমিকসহ অন্যান্য অংশীজনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়া হবে। শুমারি কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট নৌযান মালিক, চালক, শ্রমিকসহ অন্যান্য অংশীজনদের শুমারি কর্মীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তথ্য সংগ্রহের সময় প্রয়োজনীয় ও সঠিক তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’ সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, দেশের নৌপরিবহন খাতের সঠিক চিত্র তুলে ধরে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরও কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক করার ক্ষেত্রে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। এ শুমারির মাধ্যমে তৈরি হতে যাওয়া সমন্বিত ডাটাবেজ নৌপরিবহন খাতের পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও নীতিনির্ধারণে দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।