বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না
বললেন সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না বলে তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন চলছিল। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী প্রথম এক ঘণ্টা ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব। খলিলুর রহমান বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সবল এবং সফল পররাষ্ট্রনীতির কারণে আজকে আমরা মেরুদণ্ড সোজা করে মাথা উুঁচ করে দাঁড়িয়েছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই পররাষ্ট্রনীতি আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব এবং আর কখনও বাংলাদেশ কারও কাছে মাথা নত করবে না। আমরা নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা করেছি।’
আগের আওয়ামী লীগ শাসনামলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব হচ্ছে বিভিন্ন দূতাবাসের। ১৫ বছর ধরে যেই দুঃশাসন চলেছে তাতে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি আমাদের হাতে ছিল না একটা বড় অংশে। আমাদের বিভিন্ন দূতাবাসের কাজকর্মের ব্যাপারে সরকারের কোনো আগ্রহ ছিল না।
‘আমরা সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে এসেছি। প্রত্যেকটা দূতাবাসের জন্য আমরা ‘কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর’ তৈরি করছি। এটার ভিত্তিতে প্রতিটি দূতাবাসের মূল কাজের মূল্যায়ন দেব। আমরা যখন আগামী বাজেট আপনাদের কাছে পেশ করব তখন আপনারা প্রতিটি তথ্য পাবেন। আপনাদের সেই তথ্য জানবার অধিকার আছে।’
বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আলীমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নদী বাংলাদেশের জীবন এবং নদীর পানি প্রবাহ আমাদের জীবনযাত্রাকে বিপুলভাবে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। বিভিন্ন অভিন্ন নদীর ন্যায্য হিৎসা আদায় করার জন্য আমরা সব সময় তৎপর আছি। ‘গঙ্গাচুক্তি সমাপ্তির পর নতুন চুক্তি সম্পাদনের জন্য আমরা টিম গঠন করেছি এবং সেটা আমরা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তাদের জবাবের অপেক্ষায় আছি।’
খলিলুর রহমান বলেন, ‘তিস্তা প্রকল্পের ব্যাপারে আমরা চীনের সঙ্গে একটা কারিগরি মূল্যায়ন চালু করেছি। অচিরেই এ মূল্যায়ন শুরু করব। তার ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে আলোচনার মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সংসদে বলেছেন, সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশকে যুক্ত করার প্রস্তাব এলে সরকার তা ‘ইতিবাচকভাবে’ বিবেচনা করবে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সই হওয়া মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদান করা ঠিক হবে কি-না এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা দেখা যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাব আসেনি বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন চলছিল।
রুমিন ফারহানা জানতে চান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে গত ৭ অগাস্ট সই হওয়া মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হলে কী সুবিধা হবে বা বাংলাদেশ এই চুক্তি থেকে কি পেতে যাচ্ছে?
জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, ‘এই প্যাক্ট তিনটি দেশের ভেতরে হয়েছে। আমরা এই প্যাক্টটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। এতে যোগদান বা যোগদান করার বিষয়টি এখনও আসেনি। কারণ এটা নির্ভর করছে, যারা এই প্যাক্টের সদস্য তাদের অভিপ্রায়ের ওপর।’ তিনি বলেন, ‘তারা যদি অভিপ্রায় প্রকাশ করেন, বাংলাদেশকে এই প্যাক্টে নেবার জন্যে। তাহলে পরে আমরা নিশ্চয়ই সেটা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করব।’
চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে এখনই আলোচনার সময় আসেনি বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তার আগের ভালোমন্দ, এটা এই বিষয়টি আলোচনা করাটা সম্ভবত একটি, সেই সময়টি এখনও আসেনি। আমরা নিশ্চয়ই এ সমস্ত বিষয় বিবেচনায় রাখবো।’
চুক্তিটি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হলে সেটিকে ‘বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার একটি ব্যবস্থা’ হিসেবে দেখার কথাও বলেন খলিলুর রহমান।
তার ভাষ্য, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে একটা কথা যে এই প্যাক্ট, এটা যদি বিস্তৃত হয় এবং এটা হচ্ছে বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার একটি ব্যবস্থা এবং এটা আমাদের পরিবারের, মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সুতরাং এইটা নিয়ে কারও, অন্যান্যদের উদ্বেগের কোনো অবকাশ নাই।’
এর আগে ২৪ অগাস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে বাংলাদেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
