প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় নারীর মৃত্যু

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

বগুড়ার শিবগঞ্জে জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীকে বহনকারী সরকারি গাড়ির ধাক্কায় আহত নারী পথচারী ফিরোজা বিবি (৭৯) মারা গেছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে আজ সকাল পৌনে নয়টার দিকে উপজেলার কিচক ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকায় মোকামতলা-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ফিরোজা বেগম ওই এলাকার মৃত নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী সরকারি গাড়িতে করে ঢাকা থেকে তাঁর নির্বাচনী এলাকা জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় যাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে স্ত্রী নাজমা আরা বেগম এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে পুলিশের একটি গাড়ি ছিল।

গোপীনাথপুর এলাকায় পৌঁছালে ফিরোজা বিবি মহাসড়কের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির সামনে চলে আসেন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে গাড়িটি সড়কের পাশের ধানখেতে নেমে যায়। এতে ফিরোজা গুরুতর আহত হন। প্রতিমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীও আহত হন। দুর্ঘটনার পর প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী নাজমা আরা বেগম জানান, ওই নারীকে বাঁচাতে গিয়ে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে গাড়িটি সড়কের পাশে ধানখেতে নেমে যায়। আহত ফিরোজা বিবিকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ওসি শাহীনুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

প্রাণ হারানো ফিরোজা যাচ্ছিলেন মেয়ের বাড়িতে : সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ফিরোজা বেগমের গন্তব্য ছিল মেয়ের বাড়ি। বড় মেয়ে শিরি বেগমের কাছে বেড়াতে যাচ্ছিলেন তিনি। মেয়ের বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গুজিয়া গ্রামে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর আসে তাঁর মৃত্যুর খবর। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকায় মোকামতলা-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়ক পার হওয়ার সময় সরকারি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন ফিরোজা বিবি (৭৯)। গাড়িটি জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীর। গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের ধানখেতে নেমে যায়।

দুর্ঘটনার পর ফিরোজাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ভর্তি করা হয় বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে দুপুর ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ফিরোজা বেগম শিবগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামীর নাম নিজামুদ্দীন সরকার (মৃত)। তাঁর দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ে।

স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফিরোজার বড় ছেলে ফেরদৌস হোসেন কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। ছোট ছেলে সেলিম সরকার কৃষিকাজ করেন। পাঁচ মেয়েরই বিয়ে হয়ে গেছে। স্বামীর মৃত্যুর পর বড় ছেলে ফেরদৌসের স্ত্রী রিপা বেগম ও ছোট ছেলে সেলিমের স্ত্রী রেশমা বেগমের সঙ্গে থাকতেন ফিরোজা।

মেয়ের বাড়িত বেড়াবার যাওয়ার কথা কয়া হামার শাশুড়ি বিয়ানবেলা বাড়িত থ্যাকে বের হলেন। মেয়ের বাড়িত যাওয়া হলো না, ফিরলেন লাশ হয়্যা।

জাকির হাসান নামে ফিরোজার এক স্বজন বলেন, বড় চাচা (নিজামুদ্দীন) মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে সংসার চালাতেন চাচি (ফিরোজা)। বিঘা দুয়েক জমি চাষাবাদ করে সংসার চলত। গুজিয়ায় বড় মেয়ের কাছে বেড়াতে যাওয়ার জন্য অটোরিকশা ধরতে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন চাচি। এ সময় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির সঙ্গে তাঁর ধাক্কা লাগে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

তবে স্বজনেরা ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছেন। এ নিয়ে তাঁদের কোনো অভিযোগ নেই বলে জানান জাকির হাসান। তাঁর ভাষ্য, ফিরোজা বয়স্ক ছিলেন। অসাবধানতাবশত মহাসড়ক পার হতে গিয়ে গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এটি নিছক দুর্ঘটনা।

ফিরোজার পুত্রবধূ রেশমা বেগম বলেন, 'মেয়ের বাড়িত বেড়াবার যাওয়ার কথা কয়া হামার শাশুড়ি বিয়ানবেলা বাড়িত থ্যাকে বের হলেন। মেয়ের বাড়িত যাওয়া হলো না, ফিরলেন লাশ হয়্যা।'

ফিরোজার মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন বড় ছেলের স্ত্রী রিপা বেগম। স্বামী মারা যাওয়ার পর শাশুড়িই ছিলেন তাঁর বড় আশ্রয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রিপা বলেন, শাশুড়ি তাঁর কাছে বটবৃক্ষের ছায়া হিসেবে ছিলেন। এরপর আর কথা বলতে পারেননি রিপা। কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ওই দুর্ঘটনা নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুজ্জামান।

দুর্ঘটনায় আহত প্রতিমন্ত্রীকে দুই হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে পাঠানো হলো ঢাকায় : ঢাকা থেকে নিজ এলাকা জয়পুরহাট-২ (কালাই-ক্ষেতলাল-আক্কেলপুর) যাওয়ার পথে বগুড়ার শিবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালের ওই দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী ও তার স্ত্রী নাজমা আরা বেগম আহত হন। এ দুর্ঘটনায় ফিরোজা বেগম (৭৯) নামে এক নারী মারা গেছেন।

প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারী মারা গেছেনপ্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারী মারা গেছেন। জয়পুরহাটের কালাই থানার ওসি সাইদুল আলম জানান, দুর্ঘটনায় আহত প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীকে কালাইয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর জয়পুরহাট ৪০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে তার স্ত্রী সুস্থ আছেন। সেখানে চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রতিমন্ত্রীকে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এলাকার সফর বাতিল করে শুক্রবার বেলা পৌনে ১টার দিকে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়।

জয়পুরহাট ৪০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েল জানান, দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রীর ডান ও বাঁ পায়ের সোল্ডার ও বুকে আঘাত লেগেছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।