রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবের আমেজ

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

জেলার মানুষের কাছে এতদিন তিনি ছিলেন সবার পরিচিত, ও সম্মানিত 'আলমগীর স্যার'। সেই প্রিয় মানুষটিই এবার নিজ শহর ঠাকুরগাঁওয়ে ফিরছেন বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি পরিচয়ে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলায় যাচ্ছে আজ রোববার। দুই দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে তাকে বরণ করে নিতে এরইমধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো জেলায়। প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বাড়তি কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চলছে প্রস্তুতি। নির্মাণ করা হচ্ছে তোরণ, করা হচ্ছে আলোকসজ্জা। পাশাপাশি চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ব্যস্ততার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও। নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও প্রস্তুত হচ্ছেন। তবে এই আয়োজনের বাইরে সাধারণ মানুষের আগ্রহটা যেন আরও ব্যক্তিগত। কারও কাছে মির্জা ফখরুল ইসলাম জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ, কারও কাছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতা, আবার কারও কাছে তিনি নিজের শহরের 'আলমগীর স্যার'। রাষ্ট্রপতি হয়ে নিজের মাটিতে তার এই ফিরে আসা তাই ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে একইসঙ্গে গর্ব, আনন্দ আর আবেগের।

জানা গেছে, সফরের প্রথম দিন আজ সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তার অবতরণের কথা রয়েছে। পরে তিনি যাবেন জেলা সার্কিট হাউসে। সেখানে তিনি গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন। এরপর তার গন্তব্য শহরের সেনুয়া পাড়া। সেখানকার পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন তিনি।

কবর জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি শহরের কালীবাড়িতে তার নিজ বাসভবনে যাবেন। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রামের পর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির আয়োজনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। সংবর্ধনা শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সেখানেই তার রাত যাপনের কথা রয়েছে।