নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক

আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দিতে আদালতের নির্দেশ

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে এক ভারতীয় মুসলিম নারীকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশব্যাকের অভিযোগে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের সরকারকে ২ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে গুয়াহাটি হাই কোর্ট।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল.ইন-এ গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশ থেকে নির্বাসন বা বহিষ্কারের নিয়ম লঙ্ঘন করে কাউকে জোর করে বাংলাদেশে পুশব্যাকের অভিযোগে এই প্রথম কোনো রাজ্য সরকারকে আর্থিক জরিমানা করল আদালত।

যদিও এ রায় ঠিক কবে হয়েছে এবং কবের মধ্যে মুমতাজকে রাজ্য সরকারের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি খবরে। এছাড়া মুমতাজকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার পর ফেরত নেওয়া হয়েছে কিনা সে বিষয়েও কোনো তথ্য দেই।

স্ক্রলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৪ বছর বয়সি মুমতাজ বেগম নামে ওই নারীর পরিবার গুয়াহাটির হাই কোর্টে সম্প্রতি একটি 'হেবিয়াস কর্পাস' পিটিশন (এমন আইনি আবেদন, যার মাধ্যমে আদালতকে অনুরোধ করা হয় কোনো আটক ব্যক্তিকে সশরীরে আদালতে হাজির করে তার আটকের বৈধতা যাচাই করার জন্য) করেছিলেন। তখনই তারা জানতে পারেন, মুমতাজকে জোর করে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পরে হাই কোর্ট এই মামলায় ভারতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পক্ষভুক্ত করে বলে, ওই নারীকে বাংলাদেশে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাতে এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে। এছাড়া মুমতাজকে পুশব্যাকের জন্য আসামের নগাঁও ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের ভূমিকারও কড়া সমালোচনা করে আদালত।

ওই হেবিয়াস কর্পাস পিটিশনের শুনানি শেষে গুয়াহাটি আদালতের বিচারপতি কল্যাণ রায় সুরানা এবং বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খাউন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রায় ঘোষণা করে। তাতে বলা হয়, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের নেওয়া পদক্ষেপের ধরণে ক্ষতিকর উদ্দেশ্যের বিষয়টি নথিপত্রে স্পষ্ট ধরা পড়ছে।

আসামের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল হল, রাজ্যের এমন একটি বিশেষ আধা বিচারিক ব্যবস্থা বা সংস্থা, যা নথিপত্রের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। নগাঁও ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালে মুমতাজকে বাংলাদেশি ঘোষণা করে বলেছিল, তিনি তার ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন।

তবে গৌহাটি হাই কোর্ট ট্রাইব্যুনালকে বাংলাভাষী মুমতাজের মামলাটি পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। হাই কোর্টের যুক্তি ছিল, ট্রাইব্যুনাল মুমতাজের জমা দেওয়া সমস্ত তথ্য প্রমাণ বিবেচনা না করেই এই সিদ্ধান্ত দিয়েছিল।

হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে গত ৩০ মে মুমতাজ ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। তবে স্ক্রলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামলাটি আবার পরীক্ষা করে দেখার বদলে উল্টো মুমতাজকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

ওইদিনই ট্রাইব্যুনাল চত্বর থেকে সেই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুমতাজের আইনজীবীদের অভিযোগ, তাকে আদেশের কোনো কপিও দেওয়া হয়নি, যা থাকলে তিনি ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারতেন।

গত ১৭ জুলাই স্ক্রলের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩০ মে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে মুমতাজকে গ্রেপ্তার করে আসামের সবচেয়ে বড় আটক শিবির মাতিয়া ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ১৪ জুন তাকে কাছাড় জেলার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়।

স্ক্রল বলছে, গত চার বছরে আসামের আধা-বিচারিক ট্রাইব্যুনালগুলো প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে ভারতীয় নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করেছে। তবে উচ্চ আদালতগুলো প্রায়শই ট্রাইব্যুনালের এই বিচার প্রক্রিয়াকে 'স্বেচ্ছাচারী' এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে 'পক্ষপাতদুষ্ট' বলে সমালোচনা করে আসছে।