বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসে র্যালি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং সহায়ক সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সিএসডব্লিউএবি)। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় র্যালি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য 'মনখুলে কথা বলি, আত্মহত্যা প্রতিরোধ করি।' কর্মসূচির মাধ্যমে আত্মহত্যা প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশে আত্মহত্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সমস্যা। বিভিন্ন গবেষণা ও বিদ্যমান তথ্য থেকে দেখা যায়, কিশোর-কিশোরী ও তরুণ, শিক্ষার্থী, নারী এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে আত্মহত্যা ও আত্মহত্যার প্রচেষ্টার ঝুঁকি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহ, সম্পর্কজনিত সংকট, শিক্ষাজীবনের চাপ, আর্থিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, সহিংসতা, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং প্রাণঘাতী উপকরণের সহজলভ্যতা আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর তাহমিনা আখতার বলেন, আত্মহত্যাকে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা বা অপরাধ হিসেবে দেখার পরিবর্তে একটি প্রতিরোধযোগ্য স্বাস্থ্য ও সামাজিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সংকটে থাকা ব্যক্তির কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাকে বিচার না করা এবং প্রয়োজনের সময় পেশাগত সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করা আত্মহত্যা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও সিএসডব্লিওএবি-এর সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ শাহীন খান বলেন, আত্মহত্যা একটি জটিল সামাজিক ও মানসিক সমস্যা। গভীর হতাশা, একাকিত্ব, মানসিক চাপ, সম্পর্কের সংকট, আর্থিক সমস্যা ও জীবনের নানা প্রতিকূলতা এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য। পরিবার, বন্ধু, শিক্ষক, সহকর্মী ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের পাশাপাশি ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কাররা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
